০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭ জন টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭ কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে আরও দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে দুই সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের কারণে কারাগারে বন্দির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কারাগারটির ধারণক্ষমতা দেড় হাজার হলেও রোববার সকালে সেখানে বন্দির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০ জনে।

অতিরিক্ত বন্দির কারণে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে বন্দিদের নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে নতুন চারটি বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত ভবনগুলো উদ্বোধন করে চালু করা হলে বন্দিদের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চলমান অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৫০ জন কিশোর রয়েছে। যেসব কিশোরের সহসা জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, আদালতের নির্দেশে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

সিনিয়র জেল সুপার জানান, এ পর্যন্ত ২৭ জন কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের পাশাপাশি গ্রেফতার কিশোরদের বয়স, সংশ্লিষ্টতা ও আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭ জন টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

সময় : ০৪:২৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে তাদের আটক করা হয়। সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে আরও দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে দুই সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের কারণে কারাগারে বন্দির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কারাগারটির ধারণক্ষমতা দেড় হাজার হলেও রোববার সকালে সেখানে বন্দির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০ জনে।

অতিরিক্ত বন্দির কারণে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে বন্দিদের নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে নতুন চারটি বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত ভবনগুলো উদ্বোধন করে চালু করা হলে বন্দিদের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চলমান অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৫০ জন কিশোর রয়েছে। যেসব কিশোরের সহসা জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, আদালতের নির্দেশে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

সিনিয়র জেল সুপার জানান, এ পর্যন্ত ২৭ জন কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের পাশাপাশি গ্রেফতার কিশোরদের বয়স, সংশ্লিষ্টতা ও আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।