বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত চায় সাদপন্থীরা
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা এবং অতীতের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে মাওলানা সাদের অনুসারী তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ।
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, অতীতের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মসজিদে তাবলীগের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার দাবি জানিয়েছে মাওলানা সাদের অনুসারী তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম এসব দাবি জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দ্রুত ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০২৪ সালে ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের প্রতিবাদ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদপন্থী তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ নাম ব্যবহার করে সম্প্রতি আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাদের বক্তব্যকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাবলীগ জামাতের ধর্মীয় কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আরও উসকে দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
অতীতের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৮ সালে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ইসমাইল মণ্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে আব্দুর রহিম রাজন এবং ২০২৩ সালে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শামসুল হকের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
ইজতেমা ময়দান ও মার্কাজ মসজিদ নিয়ে দাবি
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় ইজতেমা ময়দান খালি করার বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ১৭ ডিসেম্বর রাতে ডা. আসগরের নামে প্রচারিত একটি কথিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তাবলীগের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা, মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ এবং এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে মসজিদে ধর্মীয় কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মার্কাজ মসজিদসংক্রান্ত বিরোধ আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি এবং তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মাওলানা সাদের অনুসারী তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ।





















