০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

কুমারখালীতে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতির ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল ফোন দুটি ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে হাতাহাতি

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন।

কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে হাতাহাতির দৃশ্য ধারণ করছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তার ওপর চড়াও হন এবং মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

একই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন।

পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানের হস্তক্ষেপে ফোন দুটি ফেরত পান বলে জানান সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা।

যা বললেন স্টার নিউজের প্রতিনিধি

স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি ভিডিও ধারণ করলে কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন।

তার ভাষ্য, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে এক নেতার হস্তক্ষেপে তারা মোবাইল ফোন ফেরত পান।

ক্যামেরাম্যানকে মারধরের অভিযোগ

মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম জানান, স্টার নিউজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে মারধর করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় সমকাল পত্রিকার কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়নকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তিনি জানান।

ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস বলেন, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি বলে তার অভিজ্ঞতা। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে এ ঘটনার পর কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি সামনে এসেছে।

কুষ্টিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

সময় : ০৫:৫১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে মোবাইল ফোন দুটি ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে হাতাহাতি

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন।

কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে উঠতে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে হাতাহাতির দৃশ্য ধারণ করছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তার ওপর চড়াও হন এবং মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

একই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধির ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন।

পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানের হস্তক্ষেপে ফোন দুটি ফেরত পান বলে জানান সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা।

যা বললেন স্টার নিউজের প্রতিনিধি

স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি ভিডিও ধারণ করলে কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন।

তার ভাষ্য, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে এক নেতার হস্তক্ষেপে তারা মোবাইল ফোন ফেরত পান।

ক্যামেরাম্যানকে মারধরের অভিযোগ

মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম জানান, স্টার নিউজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে মারধর করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় সমকাল পত্রিকার কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়নকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তিনি জানান।

ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস বলেন, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি বলে তার অভিজ্ঞতা। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে এ ঘটনার পর কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি সামনে এসেছে।