০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক তুষার হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আব্দুল নুর তুষারকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

যেভাবে উদ্ধার হয় অটোরিকশাচালকের মরদেহ

পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ

তদন্তের একপর্যায়ে তুষারের বাড়ি থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এসব ফুটেজের মাধ্যমে তুষার ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চলাচলের পথ শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকার সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

অটোরিকশা বিক্রির পরিকল্পনা, উদ্ধার যন্ত্রাংশ

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটহাজারীর ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি অটোরিকশা মেরামতের গ্যারেজে সেটি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে পুলিশ।

১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন ইমরান হোসেন আপন (২৩), মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন আপনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাসহ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অন্যদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রেপ্তার আরও একজন

এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাসেল (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

সময় : ০৪:৪৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আব্দুল নুর তুষারকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

যেভাবে উদ্ধার হয় অটোরিকশাচালকের মরদেহ

পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ

তদন্তের একপর্যায়ে তুষারের বাড়ি থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এসব ফুটেজের মাধ্যমে তুষার ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চলাচলের পথ শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকার সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

অটোরিকশা বিক্রির পরিকল্পনা, উদ্ধার যন্ত্রাংশ

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটহাজারীর ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি অটোরিকশা মেরামতের গ্যারেজে সেটি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে পুলিশ।

১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন ইমরান হোসেন আপন (২৩), মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন আপনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাসহ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অন্যদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গ্রেপ্তার আরও একজন

এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাসেল (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।