নোয়াখালীতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালীর মাইজদীতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও জেন্ডার সমতা বিষয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
নোয়াখালীতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গণমাধ্যমের প্রশিক্ষণ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সমাজে ইতিবাচক জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক রীতিনীতি প্রতিষ্ঠা এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নোয়াখালী শহরের মাইজদীর নাইস গেস্ট হাউসের সভাকক্ষে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। ‘Accelerating Action to and Child Marriage’ প্রকল্পের আওতায় কিংডম অব দ্য নেদারল্যান্ডসের আর্থিক সহযোগিতায় জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এবং সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এর আগে সোমবার কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনের এ প্রশিক্ষণে নোয়াখালী জেলা এবং জেলার ৯টি উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৩২ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
বাল্যবিয়ের ক্ষতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
কর্মশালায় বাল্যবিয়ের ফলে কন্যাশিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বপ্ন নষ্ট হওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যু, পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়েসহ ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা শূন্যে নামিয়ে আনতে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপ-পরিচালক কামরুন্নাহার বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের চোখ। তাঁদের দায়িত্বশীল সংবাদ ও লেখনীর মাধ্যমে মানুষের চিন্তায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে বাল্যবিয়ে ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
এ সময় বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার শান্তা ইসলাম, সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং ইউএনএফপিএ-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার আসমা আক্তার।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইউএনএফপিএ-এর অ্যাডোলেসেন্ট অ্যান্ড ইয়ুথ বিষয়ক টেকনিক্যাল অফিসার সুরাইয়া সুলতানা, ফিল্ড অফিসার ডা. সাদিয়া সামরিন হৃদি এবং সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. জুলফিকার আলী।
প্রশিক্ষণে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়
প্রশিক্ষকরা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নজরদারিকারী প্রতিষ্ঠান। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি দূর করা, মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কিশোর-কিশোরীদের জীবনদক্ষতা উন্নয়ন এবং বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করা সম্ভব।
প্রথম দিনে জেন্ডার বিষয়ে মৌলিক ধারণা, বাল্যবিয়ের কারণ ও প্রভাব, কিশোরী গর্ভধারণের ঝুঁকি, জেন্ডার বৈষম্য, নারী নির্যাতন এবং মাতৃমৃত্যুর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনে নারী ও কন্যাশিশুর উপস্থাপন কীভাবে ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি তৈরি করে, পুরুষ ও ছেলেদের ইতিবাচক উপস্থাপনার গুরুত্ব এবং বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।






















