০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে অনুপস্থিত, ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ

নিউজ ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও আগাম স্বাক্ষরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত পাওয়ার ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে নোটিশে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিকভাবে ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তাদের আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল। নোটিশে এ ঘটনাকে গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতাধীন অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসি বলেন, সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।

এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রায় ৩০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন। আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে অনুপস্থিত, ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ

সময় : ১২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত পাওয়ার ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে নোটিশে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিকভাবে ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তাদের আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল। নোটিশে এ ঘটনাকে গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতাধীন অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসি বলেন, সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।

এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রায় ৩০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন। আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।