০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলী টানেলের লোকসান তদন্তের সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটির

নিউজ ডেস্ক

কর্ণফুলী টানেলের আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ১১৫৩ প্রকল্পের তালিকা উপস্থাপন

বৈঠকের শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। এরপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর বর্তমান বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কেও কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

২৫৬ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ পর্যালোচনা

বৈঠকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশের ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের পেছনে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া কাজ শুরুর বিষয়গুলো উঠে আসে।

এ ছাড়া সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সংকট নিরসনে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নির্বাচন ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১ শূন্য পদে নিয়োগ

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়।

এ সময় কমিটির সভাপতি নির্দেশনা দেন, জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শূন্য পদ পূরণ করলেই হবে না; বরং সুপরিকল্পিত কর্মভার বা ‘স্ট্র্যাটেজিক লোড’ নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ অনুসন্ধান

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। টানেলটির প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও আর্থিক লোকসানের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে সংসদীয় কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অংশ নেন।

এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কর্ণফুলী টানেলের লোকসান তদন্তের সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটির

সময় : ০৪:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ১১৫৩ প্রকল্পের তালিকা উপস্থাপন

বৈঠকের শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। এরপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর বর্তমান বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কেও কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

২৫৬ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ পর্যালোচনা

বৈঠকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশের ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের পেছনে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া কাজ শুরুর বিষয়গুলো উঠে আসে।

এ ছাড়া সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সংকট নিরসনে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নির্বাচন ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২২১ শূন্য পদে নিয়োগ

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের ২২১টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন গ্রেডে ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়।

এ সময় কমিটির সভাপতি নির্দেশনা দেন, জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শূন্য পদ পূরণ করলেই হবে না; বরং সুপরিকল্পিত কর্মভার বা ‘স্ট্র্যাটেজিক লোড’ নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

কর্ণফুলী টানেলের লোকসানের কারণ অনুসন্ধান

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। টানেলটির প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও আর্থিক লোকসানের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে সংসদীয় কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অংশ নেন।

এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।