বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবস আজ: সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবসে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবস আজ: সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
স্বাস্থ্য ডেস্ক
আজ ২৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য “From Awareness to Action: One World, One Voice Against Head & Neck Cancer”, যার বাংলা ভাবার্থ “সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: হেড-নেক ক্যানসারের বিরুদ্ধে এক বিশ্ব, এক কণ্ঠ।”
এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো—শুধু সচেতনতা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেই সচেতনতাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। মুখ, নাক, গলা, জিহ্বা, স্বরযন্ত্র বা ঘাড়ে দীর্ঘদিন কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হেড-নেক ক্যানসার কী?
হেড-নেক ক্যানসার বলতে মুখগহ্বর, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ, মুখের তালু, টনসিল, স্বরযন্ত্র (ল্যারিংস), নাক, সাইনাস, নাসোফ্যারিংস, লালাগ্রন্থি এবং ঘাড় অঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারকে বোঝায়।
অপারেশন নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
সমাজে এখনও একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে—“অপারেশন করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে।” চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ হেড-নেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো অস্ত্রোপচার করলে রোগমুক্তির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রোগীর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হয়।
অস্ত্রোপচারের পরও চিকিৎসা সম্পন্ন করা জরুরি
অনেক রোগী সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওথেরাপি বা কেমোরেডিওথেরাপি সম্পন্ন করেন না। অথচ অনেক ক্ষেত্রে হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই চিকিৎসাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করলে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব হয় এবং রোগ পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমে।
রোগ নির্ণয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ
হেড-নেক ক্যানসারের সফল চিকিৎসার জন্য নির্ভুল রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রয়োজনে এফএনএসি (FNAC) বা বায়োপসি, সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআইয়ের মাধ্যমে রোগের বিস্তার নির্ণয় করে রোগের পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি অথবা সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
বিশেষজ্ঞরা যেসব সতর্কসংকেতকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন—
- ঘাড়ে গোটা বা ফোলা
- মুখের ঘা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হওয়া
- কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া
- গিলতে কষ্ট হওয়া
- মুখের ভেতরে সাদা বা লাল দাগ দেখা দেওয়া
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন ইএনটি ও হেড-নেক সার্জনের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতনতা থেকে বাস্তব পদক্ষেপ
বিশ্ব হেড-নেক ক্যানসার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, হেড-নেক ক্যানসার একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ। তামাক ও ধূমপান বর্জন, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই এই রোগে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় বা গুজবে নয়—আস্থা রাখতে হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে। সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসাই হেড-নেক ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
লেখক: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ (শাফী)
সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

























