ডাল রান্নার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন, পুষ্টি পেতে যা করবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক: আমাদের দেশে বেশিরভাগ বাড়িতে ডাল একটি প্রধান খাদ্য। মসুর, মুগ, খেসারিসহ ডালের রয়েছে নানা ধরন এবং প্রতিটিরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। রান্না করা সহজ হওয়ায় প্রতিদিনের খাবারে ডালের ব্যবহারও বেশি। তবে ডাল কীভাবে প্রস্তুত ও রান্না করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাল সঠিকভাবে প্রস্তুত না করলে এর পুষ্টিগুণের পুরোটা পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাবারে ডাল থেকে সর্বাধিক পুষ্টি পেতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।
ডাল ভিজিয়ে রাখুন
ডাল রান্নার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা উপকারী। সাধারণত কমপক্ষে দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর ডাল রান্না করা যায়। এতে ডালের কিছু অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট কমাতে সহায়তা করতে পারে এবং রান্নার সময়ও কম লাগে।
ভেজানো পানি নিয়ে কী করবেন
ডাল ভেজানোর পানি ফেলে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। কিছু পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শে ভেজানো পানিতে থাকা পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান ধরে রাখার কথা বলা হয়। তবে ডাল ভিজিয়ে রাখার পানিতে ময়লা বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান থাকার সম্ভাবনাও থাকতে পারে। তাই ডাল ভালোভাবে পরিষ্কার করে ভেজানো এবং রান্নার ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডাল ভেজানোর আগে অন্তত তিন থেকে চারবার ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে ধুলো, ময়লা ও অন্যান্য বাহ্যিক উপাদান দূর করা সহজ হয়।
ডাল থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে যা করবেন
১. অপরিশোধিত বা কম প্রক্রিয়াজাত ডাল বেছে নিন
ডাল কেনার সময় অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিকভাবে পালিশ করা পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো। স্বাভাবিক রঙ ও চেহারার মানসম্মত ডাল বেছে নেওয়া যেতে পারে।
২. গুণমানের দিকে খেয়াল রাখুন
ডাল কেনার ক্ষেত্রে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য উৎস বা ব্র্যান্ড বেছে নিন। প্যাকেটজাত ডাল হলে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, প্যাকেটের অখণ্ডতা এবং সংরক্ষণের তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
৩. বিভিন্ন ধরনের ডাল খান
শুধু এক ধরনের ডালের ওপর নির্ভর না করে মসুর, মুগসহ বিভিন্ন ধরনের ডাল খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। এতে খাবারে বৈচিত্র্য আসে এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
৪. ডাল দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরি করুন
প্রতিদিন শুধু ডাল-ভাত না খেয়ে ডাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। সালাদ, নাস্তা, রুটি বা অন্যান্য পদেও ডাল ব্যবহার করা সম্ভব। এতে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য আনা যায়।
ডাল খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি
ডাল নিয়মিত খাবারের একটি পুষ্টিকর অংশ হতে পারে। তবে শুধু ডাল খেলেই সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে শাকসবজি, শস্য, ফল, প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই প্রতিদিনের খাবারে ডাল রাখার পাশাপাশি তা ভালোভাবে পরিষ্কার, প্রস্তুত ও রান্না করার দিকে নজর দিন।

























