০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে থেকেও কেন বাড়ছে স্বামী-স্ত্রীর মানসিক দূরত্ব? জানুন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তরিক যোগাযোগ ও একসঙ্গে সময় কাটানো দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক।

লাইফস্টাইল ডেস্ক |

একই ছাদের নিচে থাকা, সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া—সবকিছু ঠিকঠাক চললেও অনেক দম্পতি ভেতরে ভেতরে একাকীত্ব অনুভব করেন। মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’ (Emotional Loneliness) বা মানসিক একাকীত্ব বলে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আন্তরিক যোগাযোগের অভাবে বর্তমানে অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই এই সমস্যা বাড়ছে।

যোগাযোগ কমে গেলে দূরত্ব বাড়ে

সম্পর্কে মানসিক দূরত্ব তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো কথোপকথনের অভাব। অফিস, সংসার, সন্তান ও দৈনন্দিন দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির আলাদা করে কথা বলার সময়ই থাকে না। ফলে ধীরে ধীরে আবেগের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।

অনুভূতির মূল্য না পাওয়া

একজন সঙ্গী যখন নিজের কষ্ট, উদ্বেগ বা অনুভূতির কথা বলেন, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না, তখন ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এতে অনেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও বন্ধ করে দেন।

প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ল্যাপটপে অতিরিক্ত সময় কাটানোও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর একটি বড় কারণ।

একই ঘরে বসে থাকলেও যখন দুজনই আলাদা স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকেন, তখন একে অপরের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়।

ঝগড়া না হওয়া মানেই সুখী সম্পর্ক নয়

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মতবিরোধ বা সমস্যার বিষয়ে কখনোই কথা না বলাও সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

অনেক দম্পতি সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে নিজের কষ্ট বা মতামত চেপে রাখেন। এতে সমস্যাগুলো সমাধান না হয়ে বরং জমতে থাকে।

ভালোবাসার প্রকাশ কমে যাওয়া

সম্পর্কে ছোট ছোট প্রশংসা, ধন্যবাদ জানানো কিংবা ভালোবাসার প্রকাশ দাম্পত্য বন্ধনকে শক্তিশালী করে।

কিন্তু অনেক সময় এসব অভ্যাস হারিয়ে গেলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে যান্ত্রিক হয়ে যেতে পারে।

একসঙ্গে সময় কাটানোর অভাব

ব্যস্ততার কারণে অনেক দম্পতির নিজেদের জন্য আলাদা সময় থাকে না।

একসঙ্গে হাঁটা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা বা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ কমে গেলে মানসিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

যখন সম্পর্ক শুধু দায়িত্বে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে যদি ভালোবাসার জায়গা ছেড়ে শুধু দায়িত্ব পালনই প্রধান হয়ে ওঠে, তাহলে একই ঘরে থেকেও দুজন মানুষ আলাদা জীবনের মতো অনুভব করতে পারেন।

মানসিক দূরত্ব কমাতে কী করবেন?

সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট শুধু একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • অভিযোগের পরিবর্তে নিজের অনুভূতি শান্তভাবে প্রকাশ করুন।
  • সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
  • মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থেকে একসঙ্গে সময় কাটান।
  • ছোট ছোট বিষয়েও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
  • একসঙ্গে নতুন কোনো শখ বা কার্যক্রম শুরু করুন।
  • দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।

একসঙ্গে থেকেও কেন বাড়ছে স্বামী-স্ত্রীর মানসিক দূরত্ব? জানুন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

সময় : ০৭:০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক |

একই ছাদের নিচে থাকা, সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া—সবকিছু ঠিকঠাক চললেও অনেক দম্পতি ভেতরে ভেতরে একাকীত্ব অনুভব করেন। মনোবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’ (Emotional Loneliness) বা মানসিক একাকীত্ব বলে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আন্তরিক যোগাযোগের অভাবে বর্তমানে অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই এই সমস্যা বাড়ছে।

যোগাযোগ কমে গেলে দূরত্ব বাড়ে

সম্পর্কে মানসিক দূরত্ব তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো কথোপকথনের অভাব। অফিস, সংসার, সন্তান ও দৈনন্দিন দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির আলাদা করে কথা বলার সময়ই থাকে না। ফলে ধীরে ধীরে আবেগের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।

অনুভূতির মূল্য না পাওয়া

একজন সঙ্গী যখন নিজের কষ্ট, উদ্বেগ বা অনুভূতির কথা বলেন, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না, তখন ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এতে অনেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও বন্ধ করে দেন।

প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ল্যাপটপে অতিরিক্ত সময় কাটানোও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর একটি বড় কারণ।

একই ঘরে বসে থাকলেও যখন দুজনই আলাদা স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকেন, তখন একে অপরের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়।

ঝগড়া না হওয়া মানেই সুখী সম্পর্ক নয়

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মতবিরোধ বা সমস্যার বিষয়ে কখনোই কথা না বলাও সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

অনেক দম্পতি সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে নিজের কষ্ট বা মতামত চেপে রাখেন। এতে সমস্যাগুলো সমাধান না হয়ে বরং জমতে থাকে।

ভালোবাসার প্রকাশ কমে যাওয়া

সম্পর্কে ছোট ছোট প্রশংসা, ধন্যবাদ জানানো কিংবা ভালোবাসার প্রকাশ দাম্পত্য বন্ধনকে শক্তিশালী করে।

কিন্তু অনেক সময় এসব অভ্যাস হারিয়ে গেলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে যান্ত্রিক হয়ে যেতে পারে।

একসঙ্গে সময় কাটানোর অভাব

ব্যস্ততার কারণে অনেক দম্পতির নিজেদের জন্য আলাদা সময় থাকে না।

একসঙ্গে হাঁটা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা বা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ কমে গেলে মানসিক দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

যখন সম্পর্ক শুধু দায়িত্বে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে যদি ভালোবাসার জায়গা ছেড়ে শুধু দায়িত্ব পালনই প্রধান হয়ে ওঠে, তাহলে একই ঘরে থেকেও দুজন মানুষ আলাদা জীবনের মতো অনুভব করতে পারেন।

মানসিক দূরত্ব কমাতে কী করবেন?

সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট শুধু একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • অভিযোগের পরিবর্তে নিজের অনুভূতি শান্তভাবে প্রকাশ করুন।
  • সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
  • মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থেকে একসঙ্গে সময় কাটান।
  • ছোট ছোট বিষয়েও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
  • একসঙ্গে নতুন কোনো শখ বা কার্যক্রম শুরু করুন।
  • দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।