ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, তরুণদের পাশে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, একটি দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তন করতে চাইলে তা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন আনতে পারে, তা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শতভাগ সফলতা সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় তৈরির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
৩ মাস চলবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ এবং বিএনসিসির সদস্য প্রায় ২২ হাজার। এর পাশাপাশি প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে।
তরুণ, গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশ গড়ার লক্ষ্যেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জমে থাকা পানিতে এডিস মশার জন্ম
ডেঙ্গু কীভাবে হয়, তা সবাই জানেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ভাঙারি, কাগজপত্র, প্লাস্টিক ও মাটির নানা জিনিস পড়ে থাকে। এসব স্থানে পানি জমে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার জন্ম হতে পারে।
তিনি বলেন, সবাই চেষ্টা করলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি জায়গায় উপস্থিত প্রত্যেকে যদি একটি করে ময়লা ফেলে যান, তাহলে ধীরে ধীরে সেগুলো জমে আবর্জনায় পরিণত হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হয়ে মানুষ ও তার প্রিয়জন অসুস্থ হতে পারেন।
তাই নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে এবং দেশকে সুস্থ রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতায় সময় দেওয়ার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, শুরুতে কিছুটা কষ্ট হলেও প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে সময় দিলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ ময়লা ফেললে তাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হতে হবে—‘কাজ, কাজ, আর কাজ’ এবং ‘পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতা’।
অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।





















