০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিটের পথে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার থেকে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে এই প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসঙ্গে সুফল পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে ঢাকার বর্জ্য সংকট মোকাবিলা, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ কার্বন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক প্রায় ৫২০ কোটি টাকা খরচ হয়। চীনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে এই ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের একটি বড় অংশ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো গেলে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই প্রকল্পে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) এবং ব্যাংক অব চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, সবাই বিদ্যুতের দাম নিয়ে কথা বলছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দাম ১০ টাকার নিচে দাঁড়াবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ পাবে।

কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি ক্রেডিট স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে এসব ক্রেডিটের মূল্য প্রকল্পের ধরন, নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ, যাচাই প্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

চীন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়ানোর প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। দেশটির ইনসিনারেটর গ্রেট প্রযুক্তি উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্যও উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি রিফিউজ-ডেরাইভড ফুয়েল (আরডিএফ) ও বায়োমেথানেশন প্রযুক্তিরও ব্যবহার রয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কার্বন ক্রেডিটের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচে মিথেন তৈরি হয়, যা শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। জৈব বর্জ্য নিয়ন্ত্রিত ডাইজেস্টারে নিয়ে মিথেন সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প তৈরি হবে, অন্যদিকে ল্যান্ডফিল থেকে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব।

তবে কার্বন ক্রেডিট থেকে কত অর্থ পাওয়া যাবে, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রকল্পের মাধ্যমে কত টন কার্বন-সমতুল্য নিঃসরণ কমানো হচ্ছে, তা পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট কার্বন বাজারের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ক্রেডিট তৈরি হতে পারে। এসব ক্রেডিটের মূল্য নির্ভর করবে ক্রেডিটের মান, বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে—এটি আশাব্যঞ্জক। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, এর ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কাঁচা বর্জ্য থেকে যে দুর্গন্ধ ও দূষণ তৈরি হয়, তা কমানো সম্ভব হবে। বর্জ্য থেকে মিথেন নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা গেলে পরিবেশ দূষণও কমবে। এর মাধ্যমে একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মডেল তৈরি হতে পারে।

ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, প্রকল্পটিতে চীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি করছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও কার্বন ট্রেডিং নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে। এখন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিটের পথে বাংলাদেশ

সময় : ০১:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজার থেকে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে এই প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে একসঙ্গে সুফল পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে ঢাকার বর্জ্য সংকট মোকাবিলা, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ কার্বন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বার্ষিক প্রায় ৫২০ কোটি টাকা খরচ হয়। চীনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে এই ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের একটি বড় অংশ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো গেলে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই প্রকল্পে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) এবং ব্যাংক অব চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, সবাই বিদ্যুতের দাম নিয়ে কথা বলছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দাম ১০ টাকার নিচে দাঁড়াবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ পাবে।

কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি ক্রেডিট স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে এসব ক্রেডিটের মূল্য প্রকল্পের ধরন, নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ, যাচাই প্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

চীন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়ানোর প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। দেশটির ইনসিনারেটর গ্রেট প্রযুক্তি উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্যও উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি রিফিউজ-ডেরাইভড ফুয়েল (আরডিএফ) ও বায়োমেথানেশন প্রযুক্তিরও ব্যবহার রয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কার্বন ক্রেডিটের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচে মিথেন তৈরি হয়, যা শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। জৈব বর্জ্য নিয়ন্ত্রিত ডাইজেস্টারে নিয়ে মিথেন সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প তৈরি হবে, অন্যদিকে ল্যান্ডফিল থেকে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নিঃসরণও কমানো সম্ভব।

তবে কার্বন ক্রেডিট থেকে কত অর্থ পাওয়া যাবে, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রকল্পের মাধ্যমে কত টন কার্বন-সমতুল্য নিঃসরণ কমানো হচ্ছে, তা পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট কার্বন বাজারের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ক্রেডিট তৈরি হতে পারে। এসব ক্রেডিটের মূল্য নির্ভর করবে ক্রেডিটের মান, বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে—এটি আশাব্যঞ্জক। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, এর ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কাঁচা বর্জ্য থেকে যে দুর্গন্ধ ও দূষণ তৈরি হয়, তা কমানো সম্ভব হবে। বর্জ্য থেকে মিথেন নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা গেলে পরিবেশ দূষণও কমবে। এর মাধ্যমে একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মডেল তৈরি হতে পারে।

ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, প্রকল্পটিতে চীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিংয়ের সুযোগ তৈরি করছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও কার্বন ট্রেডিং নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে। এখন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।