গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি সারায়? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্বাস্থ্য ডেস্ক |
বর্ষাকালে ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বর অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। এ সময় অনেকেই দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় গরম পানি, ধোঁয়া ওঠা চা বা গরম স্যুপ পান করেন। তবে প্রশ্ন হলো—গরম পানি কি সত্যিই সর্দি-কাশি সারিয়ে তোলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানি কোনোভাবেই সর্দি-কাশির ওষুধ নয়। তবে ঈষদুষ্ণ পানি গলার অস্বস্তি কমাতে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সর্দি-কাশি হলে শরীরে কী ঘটে?
ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে গলা ও নাকের ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং দেখা দেয়—
- গলা ব্যথা
- খুসখুসে কাশি
- নাক বন্ধ
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- জ্বর ও ক্লান্তি
সংক্রমণের সময় শরীরে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা (মিউকাস) তৈরি হয়। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে এই শ্লেষ্মা ঘন হয়ে নাক বন্ধের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
খুব গরম পানি কেন ক্ষতিকর হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, খুব গরম পানি পান করা উচিত নয়।
অতিরিক্ত গরম পানি—
- গলার সংবেদনশীল টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে।
- গলার জ্বালা ও খুসখুসে ভাব বাড়াতে পারে।
- মুখ ও গলার ভেতরের অংশ পুড়িয়ে ফেলতে পারে।
তাই খুব গরম পানির পরিবর্তে ঈষদুষ্ণ পানি পান করাই নিরাপদ ও উপকারী।
কীভাবে আরাম পাওয়া যায়?
সর্দি-কাশির সময় শরীরকে আর্দ্র রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সারাদিন অল্প অল্প করে ঈষদুষ্ণ পানি পান করা উপকারী।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা যেসব অভ্যাসের পরামর্শ দেন—
- ঈষদুষ্ণ পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা
- ভেষজ চা পান করা
- কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল করা
- গরম পানির ভাপ নেওয়া
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
কী খাবেন?
ঠান্ডা লাগলে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
- শাকসবজি
- মাছ বা মুরগির পাতলা ঝোল
- ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল
- পর্যাপ্ত তরল খাবার
এসব খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও তরল সরবরাহে সহায়তা করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ঈষদুষ্ণ পানি সাময়িকভাবে গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করলেও এটি সংক্রমণ সারায় না।
নিচের উপসর্গগুলোর কোনোটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- দীর্ঘদিন জ্বর থাকা
- শ্বাসকষ্ট
- তীব্র গলা ব্যথা
- উপসর্গ ক্রমেই বেড়ে যাওয়া























