০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।

ঢাকা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। প্রাথমিকভাবে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সফর চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি চায় ঢাকা। এসব ইস্যুর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর তৎপরতা

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় নিয়েও ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে জানানো হবে বলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর নাও করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ঢাকা বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সফর বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে বলে ভারতীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সফরের তারিখ ও চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি বলেন, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আগেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পরে তাঁকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহী। সম্ভাব্য ভারত সফর হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবেন।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক বৈঠকেই দুই দেশের সব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

সফর ঘিরে ব্যবসায়িক যোগাযোগও বাড়ছে

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেও যোগাযোগ বাড়ছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বণিক সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল রাখার বিষয়ে দুই দেশই আগ্রহী।

সম্ভাব্য সফরের ভবিষ্যৎ কী

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সফরটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপর সফরের সময়সূচি ও চূড়ান্ত রূপরেখা অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের ঢাকা-দিল্লি যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতের হাইকমিশনারের রাজনৈতিক পর্যায়ের বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনার পরই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা

সময় : ১১:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। প্রাথমিকভাবে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সফর চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি চায় ঢাকা। এসব ইস্যুর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর তৎপরতা

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় নিয়েও ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে জানানো হবে বলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর নাও করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ঢাকা বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সফর বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে বলে ভারতীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সফরের তারিখ ও চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি বলেন, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আগেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পরে তাঁকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহী। সম্ভাব্য ভারত সফর হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবেন।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক বৈঠকেই দুই দেশের সব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

সফর ঘিরে ব্যবসায়িক যোগাযোগও বাড়ছে

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেও যোগাযোগ বাড়ছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বণিক সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল রাখার বিষয়ে দুই দেশই আগ্রহী।

সম্ভাব্য সফরের ভবিষ্যৎ কী

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সফরটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপর সফরের সময়সূচি ও চূড়ান্ত রূপরেখা অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের ঢাকা-দিল্লি যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতের হাইকমিশনারের রাজনৈতিক পর্যায়ের বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনার পরই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।