০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই নিয়ে ভয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে প্রচারের পরিকল্পনা

প্রযুক্তি ডেস্ক

এআই নিয়ে মানুষের ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে নতুন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এআইকে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে উল্লেখ করার উদ্যোগের পাশাপাশি শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও করা হয়েছে।

চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প এটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা বদলানো। বিশেষ করে এআই মানুষের চাকরি নিয়ে নেবে বা ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে এই উদ্যোগের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ছিল অনেকটাই ভিন্ন। কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প এআই উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এআইয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তির বিকাশে বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে পরে ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বৈঠক হয়। সেখানে মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে টানাপোড়েন ছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। যদিও আমোদেইকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন অংশে অ্যানথ্রপিককে নিয়ে অবস্থান এখনো এক নয়।

নতুন চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ফলে চুক্তিটি বাস্তবে এআই নিরাপত্তায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি নিজে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিরাপত্তা নিয়ে যৌথভাবে বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

টেকক্রাঞ্চের আলোচনায় বিষয়টিকে মূলত এআইয়ের ‘ভাবমূর্তি বদলের উদ্যোগ’ হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ ‘এআই ভয়ংকর, চাকরি কেড়ে নেবে’—এমন ধারণার বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে উন্নত ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরাই হতে পারে এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এআই নিয়ে ভয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে প্রচারের পরিকল্পনা

সময় : ১১:৫৩:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নেতিবাচক ধারণা কমাতে নতুন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এআইকে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে উল্লেখ করার উদ্যোগের পাশাপাশি শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও করা হয়েছে।

চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প এটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য এআই নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা বদলানো। বিশেষ করে এআই মানুষের চাকরি নিয়ে নেবে বা ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে এই উদ্যোগের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ছিল অনেকটাই ভিন্ন। কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প এআই উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এআইয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তির বিকাশে বাধা দেওয়া যাবে না।

তবে পরে ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বৈঠক হয়। সেখানে মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে টানাপোড়েন ছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। যদিও আমোদেইকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন অংশে অ্যানথ্রপিককে নিয়ে অবস্থান এখনো এক নয়।

নতুন চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ফলে চুক্তিটি বাস্তবে এআই নিরাপত্তায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি নিজে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিরাপত্তা নিয়ে যৌথভাবে বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

টেকক্রাঞ্চের আলোচনায় বিষয়টিকে মূলত এআইয়ের ‘ভাবমূর্তি বদলের উদ্যোগ’ হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ ‘এআই ভয়ংকর, চাকরি কেড়ে নেবে’—এমন ধারণার বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’কে উন্নত ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরাই হতে পারে এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।