১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন সাগরের ৩২ ফুট গভীরে সফলভাবে সোলার সেল স্থাপন, জ্বলল এলইডি

প্রযুক্তি ডেস্ক

দক্ষিণ চীন সাগরের ৩২ ফুট গভীরে সোলার সেল স্থাপন করে সৌরশক্তি সংগ্রহের পরীক্ষা চালিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।

সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব কম প্রবেশ করতে পারে। ফলে পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। এমন পরিবেশেই চীন সাগরের প্রায় ৩২ ফুট গভীরে সফলভাবে সোলার সেল স্থাপন করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা সোলার প্যানেলগুলো মাত্র দুই ঘণ্টায় একটি লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। ইউনান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ওয়েন–হুয়া ঝাং জানান, সামুদ্রিক সোলার সেল নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে। এর বেশির ভাগই দুই মিটার বা তার কম পানির গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল।

নতুন তৈরি সোলার সেলগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

সমুদ্রের ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরে মূলত নীল ও সবুজ রঙের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পৌঁছায়। পানির নিচে সূর্যের আলোর স্বল্পতা মোকাবিলায় তাই লিড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের একধরনের সেমিকন্ডাক্টর ক্রিস্টাল ব্যবহার করে সোলার সেলগুলো তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকেরা সোলার সেলগুলোর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমারও যুক্ত করেছেন। এর ফলে সোলার সেলের অভ্যন্তরে তুলনামূলক বেশি ইলেকট্রন ধরে রাখা সম্ভব হয়।

গবেষণাগারে পরীক্ষার পর রিমোট-চালিত রোবটের সহায়তায় সোলার সেলগুলো দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েঝো দ্বীপের উপকূলের গভীরে স্থাপন করা হয়। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে এসব সোলার সেলের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরে একটি এলইডি লাইটও জ্বালানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশ ও স্থলভাগের পর এবার সমুদ্রের গভীরেও সৌরশক্তি ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সোলার সেলের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে থাকা সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা, বিভিন্ন সেন্সর এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

চীন সাগরের ৩২ ফুট গভীরে সফলভাবে সোলার সেল স্থাপন, জ্বলল এলইডি

সময় : ১১:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব কম প্রবেশ করতে পারে। ফলে পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। এমন পরিবেশেই চীন সাগরের প্রায় ৩২ ফুট গভীরে সফলভাবে সোলার সেল স্থাপন করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা সোলার প্যানেলগুলো মাত্র দুই ঘণ্টায় একটি লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। ইউনান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ওয়েন–হুয়া ঝাং জানান, সামুদ্রিক সোলার সেল নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে। এর বেশির ভাগই দুই মিটার বা তার কম পানির গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল।

নতুন তৈরি সোলার সেলগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

সমুদ্রের ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরে মূলত নীল ও সবুজ রঙের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পৌঁছায়। পানির নিচে সূর্যের আলোর স্বল্পতা মোকাবিলায় তাই লিড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের একধরনের সেমিকন্ডাক্টর ক্রিস্টাল ব্যবহার করে সোলার সেলগুলো তৈরি করা হয়েছে।

গবেষকেরা সোলার সেলগুলোর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমারও যুক্ত করেছেন। এর ফলে সোলার সেলের অভ্যন্তরে তুলনামূলক বেশি ইলেকট্রন ধরে রাখা সম্ভব হয়।

গবেষণাগারে পরীক্ষার পর রিমোট-চালিত রোবটের সহায়তায় সোলার সেলগুলো দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েঝো দ্বীপের উপকূলের গভীরে স্থাপন করা হয়। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে এসব সোলার সেলের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরে একটি এলইডি লাইটও জ্বালানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশ ও স্থলভাগের পর এবার সমুদ্রের গভীরেও সৌরশক্তি ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সোলার সেলের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে থাকা সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা, বিভিন্ন সেন্সর এবং যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট