শিক্ষামন্ত্রীর পর এবার অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি, নতুন বিতর্ক ভারতের রাজনীতিতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
কী অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ দিপকে?
অভিজিৎ দিপকের দাবি, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে এবং এর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে।
তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
দিপকে বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক। এরপরও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
বিচারব্যবস্থা ও তদন্ত সংস্থা নিয়েও সমালোচনা
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা দেশের বিচারব্যবস্থা ও কয়েকটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ছিল গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং একক কর্তৃত্বের প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
শিক্ষামন্ত্রী ও বাবা রামদেবেরও সমালোচনা
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশির কিছু বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন দিপকে। পাশাপাশি যোগগুরু বাবা রামদেবের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।
দিপকের ভাষ্য, প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধী ও ড. ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি ব্যবহার করাকে সংস্কৃতির অবমাননা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাহুল গান্ধীর দাবির প্রতি সমর্থন
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। সেই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিপকে বলেন, যদি সরকার সত্যিই মনে করে কোনো সংগঠন বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বা বিদেশি অর্থ পাচ্ছে, তাহলে সেটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া মেলেনি
নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও পদত্যাগের দাবি ওঠায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে অভিজিৎ দিপকের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























