১১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাদাখশানে বিস্ফোরণে তালেবান প্রশাসনের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের মেয়র হাবিব উর রহমান মনসুর বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের মেয়র হাবিব উর রহমান মনসুর বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে তালেবান প্রশাসনের দ্বিতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদে গাড়িতে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণে নিহত হন হাবিব উর রহমান মনসুর। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার ধরন কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফগানিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও হাবিব উর রহমানের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে তালেবান ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এরপর দ্রুত দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

হাবিব উর রহমান নিহত হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাদাখশানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জাবিহুল্লাহ আমিরিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় একটি এলাকা থেকে ফয়জাবাদে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমিরির নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে একজন হামলাকারী নিহত এবং অন্যজন আটক হন।

তবে হাবিব উর রহমান ও জাবিহুল্লাহ আমিরিকে লক্ষ্য করে চালানো দুটি হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো পক্ষও সর্বশেষ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।

আফগানিস্তানে তালেবান কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন আফগানিস্তানের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল হাক্কানি। তিনি তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির চাচা ছিলেন। সিরাজউদ্দিন হাক্কানি তালেবানের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেন।

এর আগে ২০২৩ সালের জুনে বাদাখশানের ডেপুটি গভর্নর নিসার আহমদ আহমাদি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর গাড়িচালকও মারা যান। পরে ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স (আইএস-কে) হামলার দায় স্বীকার করে।

ডেপুটি গভর্নরের মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর স্মরণসভাতেও আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আইএস-কে হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

এরও আগে ২০২৩ সালের মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের গভর্নর তাঁর কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাদাখশানে তালেবান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বাদাখশানে বিস্ফোরণে তালেবান প্রশাসনের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত

সময় : ০৬:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের মেয়র হাবিব উর রহমান মনসুর বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে তালেবান প্রশাসনের দ্বিতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদে গাড়িতে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণে নিহত হন হাবিব উর রহমান মনসুর। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার ধরন কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফগানিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও হাবিব উর রহমানের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে তালেবান ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এরপর দ্রুত দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

হাবিব উর রহমান নিহত হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাদাখশানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জাবিহুল্লাহ আমিরিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় একটি এলাকা থেকে ফয়জাবাদে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমিরির নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে একজন হামলাকারী নিহত এবং অন্যজন আটক হন।

তবে হাবিব উর রহমান ও জাবিহুল্লাহ আমিরিকে লক্ষ্য করে চালানো দুটি হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো পক্ষও সর্বশেষ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।

আফগানিস্তানে তালেবান কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন আফগানিস্তানের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল হাক্কানি। তিনি তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির চাচা ছিলেন। সিরাজউদ্দিন হাক্কানি তালেবানের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেন।

এর আগে ২০২৩ সালের জুনে বাদাখশানের ডেপুটি গভর্নর নিসার আহমদ আহমাদি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর গাড়িচালকও মারা যান। পরে ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স (আইএস-কে) হামলার দায় স্বীকার করে।

ডেপুটি গভর্নরের মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর স্মরণসভাতেও আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আইএস-কে হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

এরও আগে ২০২৩ সালের মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের গভর্নর তাঁর কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাদাখশানে তালেবান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।