০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ২০ দেশের বিশেষ ওষুধে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০% শুল্কমুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে শূন্য শুল্কের সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে ১০০ শতাংশ শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ০ শতাংশ ad valorem tariff প্রযোজ্য হবে। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ওষুধের জন্য নয়; নির্দিষ্ট specialty pharmaceutical products ও তাদের সংশ্লিষ্ট উপকরণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ ad valorem tariff কার্যকর হয়েছে। তবে সরকারি নোটিশে নির্ধারিত বিশেষ শ্রেণির ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে শূন্য শুল্কের সুবিধা রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (BIS) প্রকাশিত Federal Register নোটিশে শূন্য শুল্কের জন্য যোগ্য ২০টি jurisdiction-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ডেরাইভড থেরাপি, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস, রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত মেডিকেল কাউন্টারমেজার এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট পণ্য। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট উপকরণও নির্দিষ্ট শর্তে সুবিধার আওতায় থাকবে।

গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘Adjusting Imports of Pharmaceuticals and Pharmaceutical Ingredients Into the United States’ শীর্ষক Proclamation 11020 জারি করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ ad valorem tariff আরোপের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এই নীতির আওতায় generic pharmaceuticals এবং তাদের সংশ্লিষ্ট উপকরণ বর্তমানে Section 232 tariff-এর আওতাভুক্ত নয় বলে মার্কিন সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়া jurisdictionগুলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তির আওতায় রয়েছে। এছাড়া কোনো বিশেষ ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণ করলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য শুল্কের অনুমোদন পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

Federal Register-এর নোটিশ অনুযায়ী, এই শূন্য শুল্ক সুবিধার নিয়ম ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভোগের জন্য প্রবেশ করা বা গুদাম থেকে ভোগের জন্য প্রত্যাহার করা পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর।

বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট specialty pharmaceutical products ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য ad valorem tariff সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে এটি বাংলাদেশের সব ধরনের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ শুল্ক মওকুফ নয়—সুবিধাটি সরকারি নোটিশে সংজ্ঞায়িত নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য প্রযোজ্য।

বাংলাদেশসহ ২০ দেশের বিশেষ ওষুধে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০% শুল্কমুক্তি

সময় : ১১:৪০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে ১০০ শতাংশ শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ০ শতাংশ ad valorem tariff প্রযোজ্য হবে। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ওষুধের জন্য নয়; নির্দিষ্ট specialty pharmaceutical products ও তাদের সংশ্লিষ্ট উপকরণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ ad valorem tariff কার্যকর হয়েছে। তবে সরকারি নোটিশে নির্ধারিত বিশেষ শ্রেণির ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে শূন্য শুল্কের সুবিধা রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (BIS) প্রকাশিত Federal Register নোটিশে শূন্য শুল্কের জন্য যোগ্য ২০টি jurisdiction-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ডেরাইভড থেরাপি, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস, রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত মেডিকেল কাউন্টারমেজার এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট পণ্য। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট উপকরণও নির্দিষ্ট শর্তে সুবিধার আওতায় থাকবে।

গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘Adjusting Imports of Pharmaceuticals and Pharmaceutical Ingredients Into the United States’ শীর্ষক Proclamation 11020 জারি করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ ad valorem tariff আরোপের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এই নীতির আওতায় generic pharmaceuticals এবং তাদের সংশ্লিষ্ট উপকরণ বর্তমানে Section 232 tariff-এর আওতাভুক্ত নয় বলে মার্কিন সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়া jurisdictionগুলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তির আওতায় রয়েছে। এছাড়া কোনো বিশেষ ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণ করলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য শুল্কের অনুমোদন পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

Federal Register-এর নোটিশ অনুযায়ী, এই শূন্য শুল্ক সুবিধার নিয়ম ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভোগের জন্য প্রবেশ করা বা গুদাম থেকে ভোগের জন্য প্রত্যাহার করা পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর।

বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট specialty pharmaceutical products ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য ad valorem tariff সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে এটি বাংলাদেশের সব ধরনের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ শুল্ক মওকুফ নয়—সুবিধাটি সরকারি নোটিশে সংজ্ঞায়িত নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য প্রযোজ্য।