ব্রেন স্ট্রোক থেকে মৃগী: মস্তিষ্কের ৫টি রোগের লক্ষণ, কারণ ও সতর্কতা
ব্রেন স্ট্রোক থেকে মৃগী: মস্তিষ্কের ৫টি রোগের লক্ষণ, কারণ ও সতর্কতা
স্বাস্থ্য ডেস্ক
একসময় মস্তিষ্কের রোগ বলতে মূলত ব্রেন স্ট্রোককেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে স্ট্রোকের পাশাপাশি মেনিনজাইটিস, ব্রেন টিউমার, ব্রেন ক্যানসার, পারকিনসন ও মৃগী রোগের প্রকোপও বাড়ছে। এসব রোগ যেকোনো বয়সেই হতে পারে, যদিও ৪০ বছরের পর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রেন স্ট্রোক
মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে তাকে ব্রেন স্ট্রোক বলা হয়। অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
ঝুঁকির কারণ
- উচ্চ রক্তচাপ
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
- রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
- ধূমপান
- স্থূলতা
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ
- হৃদরোগ, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন
লক্ষণ
- হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া
- মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া
- শরীরের এক পাশ অবশ হওয়া
- কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা
ব্রেন ক্যানসার
সব ব্রেন টিউমার ক্যানসার নয়। তবে গ্লায়োমা নামে পরিচিত কিছু টিউমার ব্রেন ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণ বা সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
লক্ষণ
- দীর্ঘদিন মাথাব্যথা
- খিঁচুনি
- শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া
- দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
- ভারসাম্য হারানো
এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মেনিনজাইটিস
মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ মেনিনজেস-এ সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে তাকে মেনিনজাইটিস বলা হয়।
কারণ
- ভাইরাস
- ব্যাকটেরিয়া
- ছত্রাক
- পরজীবী
লক্ষণ
- তীব্র মাথাব্যথা
- জ্বর
- মাথা ঘোরা
- বমিভাব
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
সময়মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পারকিনসন রোগ
পারকিনসন একসময় শুধু বয়স্কদের রোগ মনে করা হলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এটি দেখা যাচ্ছে।
সম্ভাব্য কারণ
- বংশগত প্রভাব
- পরিবেশ দূষণ
- খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান
লক্ষণ
- হাত কাঁপা
- চলাফেরায় ধীরগতি
- শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
- ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা
এ রোগে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মৃগী রোগ
মৃগী (Epilepsy) একটি স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। এটি জিনগত কারণে হতে পারে, আবার মস্তিষ্কে আঘাত, জন্মগত সমস্যা বা অন্যান্য স্নায়বিক জটিলতার কারণেও হতে পারে।
লক্ষণ
- খিঁচুনি
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- শরীর কাঁপা
- কিছু সময়ের জন্য চেতনা হারানো
রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত এমআরআই (MRI) ও ইইজি (EEG) পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ—যেমন দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা, খিঁচুনি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা বা ভারসাম্য হারানো—অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব এবং জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।


























