০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসা: রোগীর কাছে সেবা পৌঁছাতে হতে পারে নতুন মডেল

স্বাস্থ্য ডেস্ক

জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার একটি অংশ পৌঁছে দিতে কেমোথেরাপি ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর প্রস্তাব।

বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম বড় সমস্যা হলো সেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ। দেশের অধিকাংশ বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা এখনো ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে একজন রোগীকে শুধু একটি কেমোথেরাপি সাইকেল নেওয়ার জন্যও অনেক সময় শত শত কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় যাতায়াত, থাকা, খাবার, caregiver-এর খরচ এবং কর্মদিবস হারানোর মতো পরোক্ষ ব্যয়।

ক্যানসারের চিকিৎসা একদিনে শেষ হয় না। অনেক রোগীকে কয়েক মাস ধরে কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি বা সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট নিতে হয়। প্রতিটি সাইকেলের জন্য যদি রোগীকে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে আসতে হয়, তাহলে চিকিৎসার শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

প্রশ্ন হলো, প্রতিটি জেলায় কি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব?

বর্তমান বাস্তবতায় হয়তো তা সহজ নয়। কিন্তু প্রতিটি জেলায় কি ক্যানসার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব।

সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় ২০ থেকে ২৫টি ট্রিটমেন্ট চেয়ার বা বেড-সমৃদ্ধ একটি Cancer Chemotherapy and Systemic Therapy Day-Care Centre প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে পারে।

এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতালের বিকল্প হবে না। বরং বিদ্যমান জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা উপযুক্ত সরকারি হাসপাতালের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করে এই সেবা চালু করা যেতে পারে।

এর জন্য বিশাল অবকাঠামো দরকার নেই। প্রয়োজন হবে treatment chair, infusion pump, monitoring system, safe drug preparation area, emergency support এবং প্রশিক্ষিত জনবল। অর্থাৎ তুলনামূলক সীমিত বিনিয়োগে একটি কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব।

তবে সব ধরনের ক্যানসার চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে দেওয়া উচিত নয়। Complex chemotherapy, high-risk regimen, unstable patient এবং বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন চিকিৎসা অবশ্যই tertiary cancer centre-এ থাকবে। কিন্তু অনেক standard chemotherapy regimen, নির্বাচিত immunotherapy, hormonal injection, supportive treatment এবং stable রোগীদের subsequent treatment cycle জেলা পর্যায়ে নিরাপদভাবে দেওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষজ্ঞ oncologist, কিন্তু উপযুক্ত রোগীর treatment delivery হবে তার নিজের জেলার কাছাকাছি।

এখানে একটি Hub-and-Spoke Model কার্যকর হতে পারে। Regional বা tertiary cancer centre হবে ‘Hub’ এবং জেলা day-care centre হবে ‘Spoke’। রোগীর diagnosis, staging, treatment protocol, dose এবং modification ঠিক করবেন oncologist। জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স সেই approved protocol অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। প্রয়োজনে tele-oncology-এর মাধ্যমে specialist supervision থাকবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি জেলায় এখনই oncologist দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই trained medical officer, oncology nurse এবং regional specialist supervision-এর সমন্বয়ই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে trained oncology nurse। শুধু কয়েকটি চেয়ার এবং infusion pump বসালেই একটি নিরাপদ chemotherapy centre তৈরি হয় না। নার্সদের chemotherapy administration, drug safety, infusion reaction, anaphylaxis, extravasation, infection prevention, central line care এবং emergency management-এর ওপর structured training দিতে হবে। এ জন্য সরকার একটি National Oncology Nursing Training and Certification Programme চালু করতে পারে।

রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিবার চিকিৎসার আগে রোগীর পরিচয়, diagnosis, regimen, dose, laboratory result এবং specialist approval যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে। Chemotherapy preparation নিরাপদ পরিবেশে হওয়া উচিত। Anaphylaxis বা infusion reaction-এর জন্য oxygen, emergency medicine, resuscitation support এবং দ্রুত referral ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উপকার পাবেন রোগীরা। নিজ জেলার কাছাকাছি চিকিৎসা নিতে পারলে ভ্রমণ খরচ কমবে, caregiver burden কমবে, treatment delay বা cycle miss হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে ঢাকার tertiary cancer centre-গুলোর চাপও কমবে। তখন বিশেষজ্ঞরা জটিল এবং বেশি ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য বেশি সময় দিতে পারবেন।

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি বাস্তবসম্মত মডেল। পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের তুলনায় কেমোথেরাপি ডে-কেয়ার ইউনিট অনেক কম ব্যয়বহুল। বিদ্যমান hospital infrastructure ব্যবহার করলে capital cost আরও কমানো সম্ভব।

তবে একসঙ্গে ৬৪ জেলায় শুরু করার দরকার নেই। প্রথমে ৮ থেকে ১০টি জেলায় pilot project চালু করা যেতে পারে। এক বছর পর মূল্যায়ন করা হবে কতজন রোগী চিকিৎসা পেলেন, complication কত হলো, ভ্রমণ খরচ কতটা কমল, treatment delay কমল কি না এবং patient satisfaction কেমন।

ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে national scale-up করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আজই পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিটি জেলার মানুষকে নিরাপদ, protocol-based cancer treatment-এর একটি অংশ নিজের এলাকার কাছেই দেওয়া মোটেও অসম্ভব নয়।

ক্যানসার চিকিৎসা বিকেন্দ্রীকরণ মানে মান কমানো নয়। বরং এর অর্থ—বিশেষজ্ঞের জ্ঞান থাকবে কেন্দ্রে, কিন্তু নিরাপদ চিকিৎসা পৌঁছে যাবে মানুষের কাছে।

এখন সময় এসেছে ক্যানসার রোগীকে চিকিৎসার পেছনে ছুটতে বাধ্য না করে, চিকিৎসাকেই রোগীর কাছে নিয়ে যাওয়ার।

জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসা: রোগীর কাছে সেবা পৌঁছাতে হতে পারে নতুন মডেল

সময় : ১২:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার অন্যতম বড় সমস্যা হলো সেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ। দেশের অধিকাংশ বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা এখনো ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে একজন রোগীকে শুধু একটি কেমোথেরাপি সাইকেল নেওয়ার জন্যও অনেক সময় শত শত কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় যাতায়াত, থাকা, খাবার, caregiver-এর খরচ এবং কর্মদিবস হারানোর মতো পরোক্ষ ব্যয়।

ক্যানসারের চিকিৎসা একদিনে শেষ হয় না। অনেক রোগীকে কয়েক মাস ধরে কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি বা সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট নিতে হয়। প্রতিটি সাইকেলের জন্য যদি রোগীকে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে আসতে হয়, তাহলে চিকিৎসার শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

প্রশ্ন হলো, প্রতিটি জেলায় কি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব?

বর্তমান বাস্তবতায় হয়তো তা সহজ নয়। কিন্তু প্রতিটি জেলায় কি ক্যানসার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব।

সরকার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় ২০ থেকে ২৫টি ট্রিটমেন্ট চেয়ার বা বেড-সমৃদ্ধ একটি Cancer Chemotherapy and Systemic Therapy Day-Care Centre প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে পারে।

এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতালের বিকল্প হবে না। বরং বিদ্যমান জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা উপযুক্ত সরকারি হাসপাতালের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করে এই সেবা চালু করা যেতে পারে।

এর জন্য বিশাল অবকাঠামো দরকার নেই। প্রয়োজন হবে treatment chair, infusion pump, monitoring system, safe drug preparation area, emergency support এবং প্রশিক্ষিত জনবল। অর্থাৎ তুলনামূলক সীমিত বিনিয়োগে একটি কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব।

তবে সব ধরনের ক্যানসার চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে দেওয়া উচিত নয়। Complex chemotherapy, high-risk regimen, unstable patient এবং বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন চিকিৎসা অবশ্যই tertiary cancer centre-এ থাকবে। কিন্তু অনেক standard chemotherapy regimen, নির্বাচিত immunotherapy, hormonal injection, supportive treatment এবং stable রোগীদের subsequent treatment cycle জেলা পর্যায়ে নিরাপদভাবে দেওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষজ্ঞ oncologist, কিন্তু উপযুক্ত রোগীর treatment delivery হবে তার নিজের জেলার কাছাকাছি।

এখানে একটি Hub-and-Spoke Model কার্যকর হতে পারে। Regional বা tertiary cancer centre হবে ‘Hub’ এবং জেলা day-care centre হবে ‘Spoke’। রোগীর diagnosis, staging, treatment protocol, dose এবং modification ঠিক করবেন oncologist। জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স সেই approved protocol অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। প্রয়োজনে tele-oncology-এর মাধ্যমে specialist supervision থাকবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি জেলায় এখনই oncologist দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই trained medical officer, oncology nurse এবং regional specialist supervision-এর সমন্বয়ই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে trained oncology nurse। শুধু কয়েকটি চেয়ার এবং infusion pump বসালেই একটি নিরাপদ chemotherapy centre তৈরি হয় না। নার্সদের chemotherapy administration, drug safety, infusion reaction, anaphylaxis, extravasation, infection prevention, central line care এবং emergency management-এর ওপর structured training দিতে হবে। এ জন্য সরকার একটি National Oncology Nursing Training and Certification Programme চালু করতে পারে।

রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিবার চিকিৎসার আগে রোগীর পরিচয়, diagnosis, regimen, dose, laboratory result এবং specialist approval যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে। Chemotherapy preparation নিরাপদ পরিবেশে হওয়া উচিত। Anaphylaxis বা infusion reaction-এর জন্য oxygen, emergency medicine, resuscitation support এবং দ্রুত referral ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উপকার পাবেন রোগীরা। নিজ জেলার কাছাকাছি চিকিৎসা নিতে পারলে ভ্রমণ খরচ কমবে, caregiver burden কমবে, treatment delay বা cycle miss হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে ঢাকার tertiary cancer centre-গুলোর চাপও কমবে। তখন বিশেষজ্ঞরা জটিল এবং বেশি ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য বেশি সময় দিতে পারবেন।

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি বাস্তবসম্মত মডেল। পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার সেন্টার নির্মাণের তুলনায় কেমোথেরাপি ডে-কেয়ার ইউনিট অনেক কম ব্যয়বহুল। বিদ্যমান hospital infrastructure ব্যবহার করলে capital cost আরও কমানো সম্ভব।

তবে একসঙ্গে ৬৪ জেলায় শুরু করার দরকার নেই। প্রথমে ৮ থেকে ১০টি জেলায় pilot project চালু করা যেতে পারে। এক বছর পর মূল্যায়ন করা হবে কতজন রোগী চিকিৎসা পেলেন, complication কত হলো, ভ্রমণ খরচ কতটা কমল, treatment delay কমল কি না এবং patient satisfaction কেমন।

ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে national scale-up করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আজই পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিটি জেলার মানুষকে নিরাপদ, protocol-based cancer treatment-এর একটি অংশ নিজের এলাকার কাছেই দেওয়া মোটেও অসম্ভব নয়।

ক্যানসার চিকিৎসা বিকেন্দ্রীকরণ মানে মান কমানো নয়। বরং এর অর্থ—বিশেষজ্ঞের জ্ঞান থাকবে কেন্দ্রে, কিন্তু নিরাপদ চিকিৎসা পৌঁছে যাবে মানুষের কাছে।

এখন সময় এসেছে ক্যানসার রোগীকে চিকিৎসার পেছনে ছুটতে বাধ্য না করে, চিকিৎসাকেই রোগীর কাছে নিয়ে যাওয়ার।