০৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ৭টি শিয়াল হত্যা: ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন ও আইনি জটিলতা

বিশেষ প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকায় উইকিপিডিয়া ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্থানীয় একদল বাসিন্দা মিলে একসাথে সাতটি বন্যপ্রাণী শিয়াল পিটিয়ে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর সেই শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার উৎসব করা হয় এবং ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিতর্কিত বিজ্ঞাপন ও ভিডিও প্রচার করা হয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে নেটিজেন, পশুপ্রেমী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে।

ঘটনার মূল বিবরণ: কী ঘটেছিল ময়দান খোলায়?
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, বরিশাল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উইকিপিডিয়া ময়দান খোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্য শিয়ালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছিল। এলাকার মানুষের গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও ছাগল খেয়ে ফেলার অভিযোগে স্থানীয় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও টেঁটা নিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে শিয়ালের আস্তানায় হানা দেয়।
মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গল থেকে শিয়ালগুলো পালাতে শুরু করলে, গ্রামবাসীরা ধাওয়া করে একসাথে ৭টি শিয়ালকে পিটিয়ে ও জখম করে হত্যা করে
মাংস খাওয়ার মহোৎসব ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন
শিয়ালগুলো শিকার করার পর অভিযুক্তরা বেশ কয়েকটি শিয়ালের চামড়া ছাড়িয়ে মাংস কাটে। এরপর তারা স্থানীয়ভাবে সেই মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে এবং রুটি দিয়ে খাওয়ার ভুঁড়িভোজের আয়োজন করে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত বিষয়টি ঘটে যখন ‘এমডি নাইম রাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মৃত শিয়াল ও চামড়া ছাড়ানোর ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে লাঠি হাতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়:
“এলাকার মা-বোনের হাঁস-মুরগি খাইছে, ছাগল খাইছে। এসব সন্ত্রাসীগো আমরা দমন কইরা ফালাইছি। এই পাতি শিয়ালের মাংস যদি কেউর লাগে তাইলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ময়দান খোলায় আইয়্যা পড়েন।”

তাছাড়া এই অবশিষ্ট মাংস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিক্রির চেষ্টাও করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

অন্ধ কুসংস্কার ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেকের মাঝে একটি প্রাচীন কুসংস্কার রয়েছে যে শিয়ালের মাংস খেলে বাতব্যথা বা অন্যান্য কঠিন রোগব্যাধি ভালো হয়। মূলত এই অন্ধ বিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই অনেকে শিয়ালের মাংস খেয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম যেমন—বিডিনিউজ২৪, দৈনিক যুগান্তর, এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা একে দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-এর চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন:
“আমরা ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়েছি। বন্যপ্রাণী হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বরিশালে ৭টি শিয়াল হত্যা: ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন ও আইনি জটিলতা

সময় : ০৫:২৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকায় উইকিপিডিয়া ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্থানীয় একদল বাসিন্দা মিলে একসাথে সাতটি বন্যপ্রাণী শিয়াল পিটিয়ে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর সেই শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার উৎসব করা হয় এবং ফেসবুকে মাংস বিক্রির বিতর্কিত বিজ্ঞাপন ও ভিডিও প্রচার করা হয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে নেটিজেন, পশুপ্রেমী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে।

ঘটনার মূল বিবরণ: কী ঘটেছিল ময়দান খোলায়?
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, বরিশাল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উইকিপিডিয়া ময়দান খোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্য শিয়ালের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছিল। এলাকার মানুষের গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও ছাগল খেয়ে ফেলার অভিযোগে স্থানীয় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও টেঁটা নিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে শিয়ালের আস্তানায় হানা দেয়।
মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গল থেকে শিয়ালগুলো পালাতে শুরু করলে, গ্রামবাসীরা ধাওয়া করে একসাথে ৭টি শিয়ালকে পিটিয়ে ও জখম করে হত্যা করে
মাংস খাওয়ার মহোৎসব ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন
শিয়ালগুলো শিকার করার পর অভিযুক্তরা বেশ কয়েকটি শিয়ালের চামড়া ছাড়িয়ে মাংস কাটে। এরপর তারা স্থানীয়ভাবে সেই মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে এবং রুটি দিয়ে খাওয়ার ভুঁড়িভোজের আয়োজন করে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত বিষয়টি ঘটে যখন ‘এমডি নাইম রাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মৃত শিয়াল ও চামড়া ছাড়ানোর ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে লাঠি হাতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়:
“এলাকার মা-বোনের হাঁস-মুরগি খাইছে, ছাগল খাইছে। এসব সন্ত্রাসীগো আমরা দমন কইরা ফালাইছি। এই পাতি শিয়ালের মাংস যদি কেউর লাগে তাইলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ময়দান খোলায় আইয়্যা পড়েন।”

তাছাড়া এই অবশিষ্ট মাংস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিক্রির চেষ্টাও করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

অন্ধ কুসংস্কার ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেকের মাঝে একটি প্রাচীন কুসংস্কার রয়েছে যে শিয়ালের মাংস খেলে বাতব্যথা বা অন্যান্য কঠিন রোগব্যাধি ভালো হয়। মূলত এই অন্ধ বিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই অনেকে শিয়ালের মাংস খেয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম যেমন—বিডিনিউজ২৪, দৈনিক যুগান্তর, এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা একে দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-এর চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন:
“আমরা ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়েছি। বন্যপ্রাণী হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”