০৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে নার্স দিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ফেনীর আল-আকসা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী শহরের খাজুরিয়া এলাকার বেসরকারি আল-আকসা জেনারেল হাসপাতালে নার্স দিয়ে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় প্রসূতির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করে তদন্ত শুরু করেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা তাহসিনা ফারহাকে সন্তান প্রসবের জন্য গত শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রোগীর বাবা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে ওই নার্স অস্ত্রোপচার করেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং প্রসূতির শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডু বলেন, রোগীর পরিবার শুরু থেকেই স্বাভাবিক প্রসবের জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি শনিবার রাতে রোগী দেখে নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে প্রয়োজন হলে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে না জানিয়েই নার্সের মাধ্যমে এপিসিওটমির চেষ্টা করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর তাঁকে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে অস্ত্রোপচার করেন।

চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডুর দাবি, রোগীকে বাঁচানোর জন্যই তিনি অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন। তাঁর মতে, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বরত নার্স এবং রোগীর পরিবারের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই ভূমিকা রেখেছে।

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মমিন বলেন, গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুটির শ্বাসজনিত সমস্যা ছিল এবং রোগীর পরিবার বারবার স্বাভাবিক প্রসবের জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাওয়ায় নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে হাসপাতালে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তাই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনীতে নার্স দিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের অভিযোগ, নবজাতকের মৃত্যু

সময় : ০৫:২২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী শহরের খাজুরিয়া এলাকার বেসরকারি আল-আকসা জেনারেল হাসপাতালে নার্স দিয়ে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় প্রসূতির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করে তদন্ত শুরু করেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা তাহসিনা ফারহাকে সন্তান প্রসবের জন্য গত শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রোগীর বাবা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে ওই নার্স অস্ত্রোপচার করেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং প্রসূতির শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডু বলেন, রোগীর পরিবার শুরু থেকেই স্বাভাবিক প্রসবের জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি শনিবার রাতে রোগী দেখে নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে প্রয়োজন হলে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে না জানিয়েই নার্সের মাধ্যমে এপিসিওটমির চেষ্টা করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর তাঁকে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে অস্ত্রোপচার করেন।

চিকিৎসক শম্পা কুণ্ডুর দাবি, রোগীকে বাঁচানোর জন্যই তিনি অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন। তাঁর মতে, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বরত নার্স এবং রোগীর পরিবারের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই ভূমিকা রেখেছে।

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মমিন বলেন, গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুটির শ্বাসজনিত সমস্যা ছিল এবং রোগীর পরিবার বারবার স্বাভাবিক প্রসবের জন্য চাপ দিচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাওয়ায় নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে হাসপাতালে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তাই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।