০৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশের সংকট, ভরা মৌসুমেও বাজারে কম সরবরাহ | মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী

বাণিজ্য ডেস্ক

ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকায় পিরোজপুরের বাজারে বেড়েছে মাছের দাম।

ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, বেড়েছে মাছের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | পিরোজপুর

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরের বাজারে মিলছে না প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ। সমুদ্রে মাছের স্বল্পতার কারণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে না। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে এবং ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১,২০০ টাকা। মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশের দাম ১,৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

সামুদ্রিক ও চাষের মাছের বাজারেও অস্থিরতা

ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ৪৫০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা মাছের দাম প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা

চাষের মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই মাছ ২৫০–৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০–২৫০ টাকা এবং মরমা মাছ ৪০০–৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার এবং সাগরে ট্রলিং ফিশিংয়ের কারণে মাছের পোনা ও রেণু নষ্ট হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

পিরোজপুর পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন,

“ইলিশের এখন ভরা মৌসুম, কিন্তু বাজারে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিক্রি করব কী! নিজেদের খাওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তাও পাই না।”

আরেক ব্যবসায়ী আজমল শেখ বলেন,

“চায়না জালের কারণে দেশীয় মাছ ধ্বংস হচ্ছে। আগে বর্ষাকালে অনেক মাছ পাওয়া যেত, এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না।”

ক্রেতাদের দুর্ভোগ

বাজারে মাছের উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাছ কিনতে আসা শাহজালাল শেখ বলেন,

“ইলিশ মাছের যে দাম, আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। ইলিশ এখন বড়লোকের খাবার, গরিবের জন্য বিলাসিতা।”

যা বলছে মৎস্য বিভাগ

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে নদীতে এলেও বর্তমানে নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইলিশের সংকট, ভরা মৌসুমেও বাজারে কম সরবরাহ | মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী

সময় : ১১:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, বেড়েছে মাছের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | পিরোজপুর

ভরা মৌসুমেও পিরোজপুরের বাজারে মিলছে না প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ। সমুদ্রে মাছের স্বল্পতার কারণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে না। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে এবং ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১,২০০ টাকা। মাঝারি ও বড় আকারের ইলিশের দাম ১,৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

সামুদ্রিক ও চাষের মাছের বাজারেও অস্থিরতা

ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ৪৫০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা মাছের দাম প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা

চাষের মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই মাছ ২৫০–৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০–২৫০ টাকা এবং মরমা মাছ ৪০০–৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার এবং সাগরে ট্রলিং ফিশিংয়ের কারণে মাছের পোনা ও রেণু নষ্ট হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

পিরোজপুর পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন,

“ইলিশের এখন ভরা মৌসুম, কিন্তু বাজারে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিক্রি করব কী! নিজেদের খাওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তাও পাই না।”

আরেক ব্যবসায়ী আজমল শেখ বলেন,

“চায়না জালের কারণে দেশীয় মাছ ধ্বংস হচ্ছে। আগে বর্ষাকালে অনেক মাছ পাওয়া যেত, এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না।”

ক্রেতাদের দুর্ভোগ

বাজারে মাছের উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাছ কিনতে আসা শাহজালাল শেখ বলেন,

“ইলিশ মাছের যে দাম, আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। ইলিশ এখন বড়লোকের খাবার, গরিবের জন্য বিলাসিতা।”

যা বলছে মৎস্য বিভাগ

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়তে নদীতে এলেও বর্তমানে নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।