০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে শত শত শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে আকস্মিক ও প্রাণঘাতী পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ দুর্যোগে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে কয়েক শ শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ত্রিশূলী নদীর ওপর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন পেমবা দুনদু তামাংসহ প্রায় ৩০ জন শ্রমিক। তাঁরা তখন সুড়ঙ্গে কংক্রিটের আস্তর দেওয়ার কাজ করছিলেন। হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটা এসে সেখানে রাখা প্লাইউডের পাত উড়িয়ে নিয়ে যায়। এমনকি ভারী যন্ত্রপাতিও জায়গা থেকে সরে যায়। এর পরপরই হুড়মুড়িয়ে সুড়ঙ্গে পানি ঢুকতে শুরু করে।

বিবিসিকে তামাং বলেন, বিপদ বুঝতে পেরে তিনি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। তখন ঢলের পানি তাঁর পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল। প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ২০ মিনিট দৌড়ে তিনি পাহাড়ের দিকে উঠে যান। এ সময় তিনি আঘাত পান এবং প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন।

তামাংয়ের সহকর্মী ইথা ঘালেও ওই ঢল থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তিনি জানান, দৌড়ানোর সময় প্রবল বাতাসের ঝাপটা তাঁদের প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

ঢলে ভেসে গেছে বাড়ি

তামাং ও ঘালে ‘আপার ত্রিশূলী ৩বি’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রকল্পটি আগামী বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। উজানে থাকা একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহৃত পানি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা নেপালের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।

তামাং জানান, প্রকল্পে কয়েকটি দল আলাদাভাবে কাজ করছিল। বড় সুড়ঙ্গে কংক্রিটের আস্তর দেওয়ার যন্ত্র পরিচালনাকারী দলটি সবার শেষে বের হতে পেরেছিল। সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের বাড়িঘর আর আগের জায়গায় নেই।

তামাংয়ের পরিবারের ছয় সদস্য এ দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা, বড় ভাই, ভাবি ও তাঁদের তিন সন্তান রয়েছেন। ঢলের সময় তাঁরা নদীর তীরে নিজেদের বাড়িতে ছিলেন। তবে তামাংয়ের স্ত্রী, ছেলে ও এক ভাতিজা বেঁচে গেছেন।

স্বজন হারানোর পর তামাং বলেন, তাঁর কাছে এখন জীবন অর্থহীন মনে হচ্ছে। কোথায় খাবেন, কোথায় যাবেন—কিছুই জানেন না তিনি। তাঁর ভাষায়, যারা মারা গেছেন তারা শান্তিতে আছেন; কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, কষ্টটা তাঁদেরই।

ইথা ঘালেও পরিবারের আট সদস্যকে হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা ও বড় মেয়েও রয়েছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও তিন ছেলে বেঁচে গেছেন।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় শ্রমিকরা

ঘরবাড়ি ও স্বজন হারানোর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তামাং। তিনি আশঙ্কা করছেন, কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যাবে।

ঢল থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর তামাং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে শান্তিবাজার নামে একটি গ্রামে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই দিন থাকার পর সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।

তামাংয়ের ধারণা, তাঁর সঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পেরেছিলেন। বাকিদের অনেকে হয়তো এখনো আটকা পড়ে আছেন। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা আগে থেকে থাকলে আরও অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।

লক্ষণ ছিল, তবে সতর্কবার্তা ছিল না

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের কয়েক দিন আগেই হিমবাহের আশপাশে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে হিমবাহের ওপরের অংশ দ্রুত সরে যাওয়ার চিত্র ধরা পড়ে। বরফ গলে জমা পানি ক্রমে বাদামি হয়ে উঠছিল এবং আশপাশের পাহাড়ি পাথরে ফাটলও তৈরি হচ্ছিল।

এশিয়ান মাউন্টেন একাডেমিক অ্যালায়েন্স, স্টিমসন সেন্টার ও চীনের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবই পাহাড়ের ঢালে অস্বাভাবিকতার লক্ষণ। তবে পাহাড়ি ঢলটি এত দ্রুত ও তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে এসেছিল যে কাছাকাছি থাকা মানুষদের প্রচলিত সতর্কব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো সতর্ক করা সম্ভব হয়নি।

আরও ভাটির দিকে থাকা এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। সেখানে ঢলের পানি পৌঁছাতে ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লেগেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকায় সমন্বিত আগাম সতর্কব্যবস্থা থাকলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে চীন, নেপাল ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন। খননযন্ত্র ও ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে জানিয়েছেন, সেনারা সুড়ঙ্গগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধার এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতেও কাজ চলছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তামাংয়ের পরিচিত অনেক শ্রমিক এখনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন তিনি। তামাং বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়া অনেককেই তিনি চেনেন এবং তাঁদের কেউ কেউ হয়তো এখনো জীবিত আছেন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করা গেলে তিনি খুশি হবেন।

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে শত শত শ্রমিক

সময় : ০১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে আকস্মিক ও প্রাণঘাতী পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ দুর্যোগে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে কয়েক শ শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ত্রিশূলী নদীর ওপর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন পেমবা দুনদু তামাংসহ প্রায় ৩০ জন শ্রমিক। তাঁরা তখন সুড়ঙ্গে কংক্রিটের আস্তর দেওয়ার কাজ করছিলেন। হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটা এসে সেখানে রাখা প্লাইউডের পাত উড়িয়ে নিয়ে যায়। এমনকি ভারী যন্ত্রপাতিও জায়গা থেকে সরে যায়। এর পরপরই হুড়মুড়িয়ে সুড়ঙ্গে পানি ঢুকতে শুরু করে।

বিবিসিকে তামাং বলেন, বিপদ বুঝতে পেরে তিনি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। তখন ঢলের পানি তাঁর পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল। প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ২০ মিনিট দৌড়ে তিনি পাহাড়ের দিকে উঠে যান। এ সময় তিনি আঘাত পান এবং প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন।

তামাংয়ের সহকর্মী ইথা ঘালেও ওই ঢল থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তিনি জানান, দৌড়ানোর সময় প্রবল বাতাসের ঝাপটা তাঁদের প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

ঢলে ভেসে গেছে বাড়ি

তামাং ও ঘালে ‘আপার ত্রিশূলী ৩বি’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রকল্পটি আগামী বছর চালু হওয়ার কথা ছিল। উজানে থাকা একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহৃত পানি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা নেপালের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।

তামাং জানান, প্রকল্পে কয়েকটি দল আলাদাভাবে কাজ করছিল। বড় সুড়ঙ্গে কংক্রিটের আস্তর দেওয়ার যন্ত্র পরিচালনাকারী দলটি সবার শেষে বের হতে পেরেছিল। সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের বাড়িঘর আর আগের জায়গায় নেই।

তামাংয়ের পরিবারের ছয় সদস্য এ দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা, বড় ভাই, ভাবি ও তাঁদের তিন সন্তান রয়েছেন। ঢলের সময় তাঁরা নদীর তীরে নিজেদের বাড়িতে ছিলেন। তবে তামাংয়ের স্ত্রী, ছেলে ও এক ভাতিজা বেঁচে গেছেন।

স্বজন হারানোর পর তামাং বলেন, তাঁর কাছে এখন জীবন অর্থহীন মনে হচ্ছে। কোথায় খাবেন, কোথায় যাবেন—কিছুই জানেন না তিনি। তাঁর ভাষায়, যারা মারা গেছেন তারা শান্তিতে আছেন; কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, কষ্টটা তাঁদেরই।

ইথা ঘালেও পরিবারের আট সদস্যকে হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা ও বড় মেয়েও রয়েছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও তিন ছেলে বেঁচে গেছেন।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় শ্রমিকরা

ঘরবাড়ি ও স্বজন হারানোর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তামাং। তিনি আশঙ্কা করছেন, কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যাবে।

ঢল থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর তামাং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে শান্তিবাজার নামে একটি গ্রামে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই দিন থাকার পর সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।

তামাংয়ের ধারণা, তাঁর সঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পেরেছিলেন। বাকিদের অনেকে হয়তো এখনো আটকা পড়ে আছেন। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা আগে থেকে থাকলে আরও অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।

লক্ষণ ছিল, তবে সতর্কবার্তা ছিল না

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের কয়েক দিন আগেই হিমবাহের আশপাশে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে হিমবাহের ওপরের অংশ দ্রুত সরে যাওয়ার চিত্র ধরা পড়ে। বরফ গলে জমা পানি ক্রমে বাদামি হয়ে উঠছিল এবং আশপাশের পাহাড়ি পাথরে ফাটলও তৈরি হচ্ছিল।

এশিয়ান মাউন্টেন একাডেমিক অ্যালায়েন্স, স্টিমসন সেন্টার ও চীনের ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবই পাহাড়ের ঢালে অস্বাভাবিকতার লক্ষণ। তবে পাহাড়ি ঢলটি এত দ্রুত ও তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে এসেছিল যে কাছাকাছি থাকা মানুষদের প্রচলিত সতর্কব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো সতর্ক করা সম্ভব হয়নি।

আরও ভাটির দিকে থাকা এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। সেখানে ঢলের পানি পৌঁছাতে ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় লেগেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকায় সমন্বিত আগাম সতর্কব্যবস্থা থাকলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে চীন, নেপাল ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছেন। খননযন্ত্র ও ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে জানিয়েছেন, সেনারা সুড়ঙ্গগুলোতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধার এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতেও কাজ চলছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তামাংয়ের পরিচিত অনেক শ্রমিক এখনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন তিনি। তামাং বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়া অনেককেই তিনি চেনেন এবং তাঁদের কেউ কেউ হয়তো এখনো জীবিত আছেন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করা গেলে তিনি খুশি হবেন।