০৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম সার্জেন্ট ও ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্ব একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীকে জনবান্ধব নতুন পুলিশিং ব্যবস্থার স্বাদ দিতে হবে।

পুলিশ সংস্কারে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবক হতে হবে। ব্রিটিশ আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধ মানুষের মনে প্রশান্তি জাগানোর মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দেন।

নবীন কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাই হবে তাদের কর্মের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, মাদকসহ সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদক কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

মাদকের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো সমাজ ও দেশকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৬ পুলিশ সদস্য

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২৭তম সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন প্রশিক্ষণার্থীই পুরুষ। অন্যদিকে, ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ১৬২ জনের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং ১৫৭ জন পুরুষ রয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সালাহউদ্দিন আহমদ অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন তিনি।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসান বিপিএম, পিপিএম, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করেছিল।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর ৮৪ জন সার্জেন্ট ও ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী সাব-ইন্সপেক্টর রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

সময় : ০২:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম সার্জেন্ট ও ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যদের ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্ব একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীকে জনবান্ধব নতুন পুলিশিং ব্যবস্থার স্বাদ দিতে হবে।

পুলিশ সংস্কারে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবক হতে হবে। ব্রিটিশ আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধ মানুষের মনে প্রশান্তি জাগানোর মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে নবীন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দেন।

নবীন কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাই হবে তাদের কর্মের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও বলেন, মাদকসহ সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদক কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

মাদকের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো সমাজ ও দেশকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন ২৪৬ পুলিশ সদস্য

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২৭তম সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন প্রশিক্ষণার্থীই পুরুষ। অন্যদিকে, ৪৩তম সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ১৬২ জনের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং ১৫৭ জন পুরুষ রয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সালাহউদ্দিন আহমদ অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন তিনি।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসান বিপিএম, পিপিএম, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করেছিল।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর ৮৪ জন সার্জেন্ট ও ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী সাব-ইন্সপেক্টর রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।