০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, দুই ডিজিএফআই সদস্যকে হেফাজতে চায় সংস্থাটি

নিউজ ডেস্ক

মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই ডিজিএফআই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতের অনুমতি পেয়েছে সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. শরীফ নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। সেনা আইন অনুযায়ী গঠিত তদন্ত আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ আবেদন করা হয়।

ডিজিএফআই সদর দপ্তর থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আবেদ আবেদনটি করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ডিজিএফআইয়ের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানার মামলা নম্বর ৭৯(১০)২৬-এর দুই আসামিকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদপুর থানার মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তদন্ত আদালত’ (কোর্ট অব ইনকোয়ারি) গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন।

এ অবস্থায় অভিযুক্ত দুই সেনা সদস্যকে ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠিতে আশ্বস্ত করা হয়, সেনা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে অগ্রগতি ও ফলাফল আদালতকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইন অনুযায়ী কোনো কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে সামরিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে আসামিদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এটি আইনের নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে তারা নিশ্চিত করতে চান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ভুক্তভোগী যেন পূর্ণ ন্যায়বিচার পান। বিচার প্রচলিত আদালতে হোক বা সামরিক ট্রাইব্যুনালে, অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের এই দুই সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগী শরীফের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে সোহেল রানা নামের এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর একটি কক্ষে আটকে রেখে আসামিরা তাকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা তাকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনের পুলিশ চেকপোস্টে শরীফ পুলিশের সাহায্য চাইলে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে।

এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ছাড়াও আনসার সদস্য সোহেল রানা, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এবার ওই দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সেনা আইনে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, দুই ডিজিএফআই সদস্যকে হেফাজতে চায় সংস্থাটি

সময় : ০৪:০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. শরীফ নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। সেনা আইন অনুযায়ী গঠিত তদন্ত আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ আবেদন করা হয়।

ডিজিএফআই সদর দপ্তর থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আবেদ আবেদনটি করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ডিজিএফআইয়ের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানার মামলা নম্বর ৭৯(১০)২৬-এর দুই আসামিকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদপুর থানার মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তদন্ত আদালত’ (কোর্ট অব ইনকোয়ারি) গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন।

এ অবস্থায় অভিযুক্ত দুই সেনা সদস্যকে ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠিতে আশ্বস্ত করা হয়, সেনা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে অগ্রগতি ও ফলাফল আদালতকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইন অনুযায়ী কোনো কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে সামরিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে আসামিদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এটি আইনের নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে তারা নিশ্চিত করতে চান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ভুক্তভোগী যেন পূর্ণ ন্যায়বিচার পান। বিচার প্রচলিত আদালতে হোক বা সামরিক ট্রাইব্যুনালে, অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের এই দুই সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগী শরীফের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে সোহেল রানা নামের এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর একটি কক্ষে আটকে রেখে আসামিরা তাকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা তাকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনের পুলিশ চেকপোস্টে শরীফ পুলিশের সাহায্য চাইলে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে।

এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ছাড়াও আনসার সদস্য সোহেল রানা, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এবার ওই দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সেনা আইনে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।