জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার মামলায় জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনি মিয়া (৩৭) জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের দড়িমহলপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, জামালপুর সদর উপজেলার দড়ি হামিদপুর এলাকার হমিদুর রহমানের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে পাশের এলাকার জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জনি মিয়া তার স্ত্রী তমা খাতুনের কাছে অটোরিকশা কেনার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে তমা বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা যৌতুক দিতে রাজি হননি।
এ নিয়ে তমা খাতুন ও জনি মিয়ার সংসারে অশান্তি চলতে থাকে। পরে ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে জনি মিয়া তমাকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে তমার মৃত্যু হয়। পরে জনি ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য তমার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার পর ওই বছরের ৬ এপ্রিল তমা খাতুনের মা উম্মে কুলছুম জনি মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল রহিম প্রধান আসামি জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। মামলার বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহফুজা সুলতানা সাথি।


















