ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর জামিন খারিজ, আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সজিব চন্দ্র বণিক। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ।
অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযোগকারীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ফেসবুকে পরিচয়, পরে সম্পর্কের অভিযোগ
মামলার এজাহার ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে গিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন আসামি।
এ সময় গোপনে ভুক্তভোগীর আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হয় এবং পরে সেই ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, গত বছরের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ভুক্তভোগী ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিয়ের বিষয়ে কথা বললে পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ, পরে থানায় মামলা
উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর একই বছরের ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে শারীরিক সম্পর্কের আলামত থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক নয় বলে জানানো হয়। মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র
পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
পরীক্ষার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে ১০ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৪ মে ট্রাইব্যুনাল থেকে পুনরায় জামিন নামঞ্জুর হলে আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। সে সময় চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
নির্ধারিত তারিখে মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট দেখতে পান, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর জামিন আবেদনের আর কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন।
রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিচারিক আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।




















