০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ৭ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে হত্যার দায়ে মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। রায় ঘোষণার আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১১ বছর আগে শরিয়ত অনুযায়ী রেহানার সঙ্গে মিজানের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে রেহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মিজান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রেহানার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টিনের ঘরও তৈরি করে দেয়। এরপরও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান পুনরায় রেহানার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় রেহানাকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় রেহানাকে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে যেকোনো সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৬ জুলাই রেহানার বড় ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্কাস মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ৭ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সময় : ০১:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। রায় ঘোষণার আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১১ বছর আগে শরিয়ত অনুযায়ী রেহানার সঙ্গে মিজানের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে রেহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মিজান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রেহানার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টিনের ঘরও তৈরি করে দেয়। এরপরও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান পুনরায় রেহানার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় রেহানাকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় রেহানাকে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে যেকোনো সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৬ জুলাই রেহানার বড় ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্কাস মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।