০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ৬ খালাতো ভাইবোনের মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ নমুনা দিলেন স্বজনরা

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ছয় খালাতো ভাইবোনের মরদেহ শনাক্তে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে রক্তের নমুনা দিয়েছেন স্বজনরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে ও দুজন ছেলে। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি স্বজনরা।

আদরের সন্তানদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষায় রক্তের নমুনা দিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে যান নিহতদের স্বজনরা।

ছেলে মোহাম্মদ নাফিস ইসতেহামি ও মেয়ে ফারিহা কবিরের মরদেহ শনাক্ত করতে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসেছেন ৫৭ বছর বয়সী জেয়াদুল কবির। তাঁর সঙ্গে এসেছেন দুই মেয়ে ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহানের বাবা মো. মামুনুর রশিদ।

সাত বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূরের মরদেহ শনাক্তের জন্য রক্তের নমুনা দিতে এসেছেন তাঁর বাবা মো. নূরে আলম। আর মিথিলা মেহেজাবীন আরভীর মরদেহ শনাক্তের জন্য নমুনা দিতে এসেছেন তাঁর বাবা শাহজাহান।

জেয়াদুল কবির, মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান সম্পর্কে ভায়রা ভাই। নূরে আলম হলেন জেয়াদুল কবিরের জামাতা।

‘আমাদের পরিবারের ছয়জনের লাশ এখনো শনাক্ত করা যায়নি’

রক্তের নমুনা দিয়ে সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেয়াদুল কবির ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাঁদের পরিবারের ছয়জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো অঙ্গার হয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সন্তানদের মরদেহ কবে নাগাদ শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তা এখনো জানেন না তাঁরা। সিআইডি থেকে যত দ্রুত সম্ভব ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কত দিন লাগবে, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে জেয়াদুল কবির বলেন, সন্তানদের আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে তাঁদের মরদেহ যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রিয়জনদের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনরা। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ৬ খালাতো ভাইবোনের মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ নমুনা দিলেন স্বজনরা

সময় : ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে ও দুজন ছেলে। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি স্বজনরা।

আদরের সন্তানদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষায় রক্তের নমুনা দিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে যান নিহতদের স্বজনরা।

ছেলে মোহাম্মদ নাফিস ইসতেহামি ও মেয়ে ফারিহা কবিরের মরদেহ শনাক্ত করতে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসেছেন ৫৭ বছর বয়সী জেয়াদুল কবির। তাঁর সঙ্গে এসেছেন দুই মেয়ে ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহানের বাবা মো. মামুনুর রশিদ।

সাত বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূরের মরদেহ শনাক্তের জন্য রক্তের নমুনা দিতে এসেছেন তাঁর বাবা মো. নূরে আলম। আর মিথিলা মেহেজাবীন আরভীর মরদেহ শনাক্তের জন্য নমুনা দিতে এসেছেন তাঁর বাবা শাহজাহান।

জেয়াদুল কবির, মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান সম্পর্কে ভায়রা ভাই। নূরে আলম হলেন জেয়াদুল কবিরের জামাতা।

‘আমাদের পরিবারের ছয়জনের লাশ এখনো শনাক্ত করা যায়নি’

রক্তের নমুনা দিয়ে সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেয়াদুল কবির ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাঁদের পরিবারের ছয়জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো অঙ্গার হয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সন্তানদের মরদেহ কবে নাগাদ শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তা এখনো জানেন না তাঁরা। সিআইডি থেকে যত দ্রুত সম্ভব ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কত দিন লাগবে, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে জেয়াদুল কবির বলেন, সন্তানদের আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে তাঁদের মরদেহ যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রিয়জনদের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনরা। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।