০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান নওশাদ জমিরের

নিউজ ডেস্ক

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য নওশাদ জমির।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক সনদে তিনটি ব্যবস্থার প্রস্তাব

মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

ব্যবস্থাগুলো হলো— অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।

তার মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বাস্তবতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন নওশাদ জমির

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি মনে করেন, এসব দেশের ওপর থাকা দায়িত্ব ও চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। এর মাধ্যমে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন নওশাদ জমির।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধের আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আপস করতে গিয়ে সনদ দুর্বল না করার সতর্কতা

প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান নওশাদ জমিরের

সময় : ০৫:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক সনদে তিনটি ব্যবস্থার প্রস্তাব

মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

ব্যবস্থাগুলো হলো— অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।

তার মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বাস্তবতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন নওশাদ জমির

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি মনে করেন, এসব দেশের ওপর থাকা দায়িত্ব ও চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। এর মাধ্যমে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন নওশাদ জমির।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধের আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আপস করতে গিয়ে সনদ দুর্বল না করার সতর্কতা

প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।