০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয় ও সেখানকার কাল্পনিক জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বাড়ি ছেড়েছিল। তবে এ ঘটনায় অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা পুলিশকে অবহিত করেন।

এ ঘটনায় থানায় পৃথক চারটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এর আগে নিখোঁজ হওয়ার পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী তাজমিনের ঘটনার কারণে চার ছাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য জেলা ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সম্ভাব্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।

পরে সোমবার গভীর রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চুনারুঘাট এলাকা থেকে চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা

পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পর মঙ্গলবার ছাত্রীদের কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা জানায়, পড়াশোনায় তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। ছেলেদের মধ্যে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয়, জিসান, সুজন, মিনহাজ, মোফাজ্জল ও শোয়েবের নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে ছাত্রীরা নিশ্চিত ছিল না।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কাল্পনিক জীবনের প্রভাবে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচা, নিজেরা উপার্জন করা এবং পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছাড়ে। এ সময় তারা বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে নেয়।

মোবাইল ফোন বিক্রি করে ঢাকায় যায়

পুলিশ সুপার জানান, ছাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালে তাদের একজন কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ফোন বিক্রির টাকা ও সঙ্গে নেওয়া স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়।

ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধা করতে না পেরে তারা চুনারুঘাটে এক ছাত্রীর দাদার বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করতে না পারায় অটোরিকশায় ঘোরাফেরা করছিল তারা। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার জব্দ

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ছাত্রীদের দেখানো মতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। এ ছাড়া ছাত্রীদের কাছ থেকে সঙ্গে নেওয়া স্বর্ণালংকারও জব্দ করা হয়।

অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান পুলিশের

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রতিম ও তাজমিন হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সময়মতো নিখোঁজের খবর পাওয়ায় চার স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো খবর পেলে তাজমিনকেও জীবিত উদ্ধার করা যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আট ছেলের কেউ ছাত্রীদের বাড়ি ছাড়ার পেছনে জড়িত ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, এখনো ওই ছেলেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছাত্রীদের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রীকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় রাখা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার

সময় : ০৫:২১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয় ও সেখানকার কাল্পনিক জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বাড়ি ছেড়েছিল। তবে এ ঘটনায় অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা পুলিশকে অবহিত করেন।

এ ঘটনায় থানায় পৃথক চারটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এর আগে নিখোঁজ হওয়ার পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী তাজমিনের ঘটনার কারণে চার ছাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য জেলা ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সম্ভাব্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে।

পরে সোমবার গভীর রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চুনারুঘাট এলাকা থেকে চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা

পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পর মঙ্গলবার ছাত্রীদের কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা জানায়, পড়াশোনায় তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। ছেলেদের মধ্যে আবু হুজাইফা, মারজান, হৃদয়, জিসান, সুজন, মিনহাজ, মোফাজ্জল ও শোয়েবের নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে ছাত্রীরা নিশ্চিত ছিল না।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কাল্পনিক জীবনের প্রভাবে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচা, নিজেরা উপার্জন করা এবং পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছাড়ে। এ সময় তারা বাড়ি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে নেয়।

মোবাইল ফোন বিক্রি করে ঢাকায় যায়

পুলিশ সুপার জানান, ছাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালে তাদের একজন কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ফোন বিক্রির টাকা ও সঙ্গে নেওয়া স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়।

ঢাকায় গিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধা করতে না পেরে তারা চুনারুঘাটে এক ছাত্রীর দাদার বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করতে না পারায় অটোরিকশায় ঘোরাফেরা করছিল তারা। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার জব্দ

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ছাত্রীদের দেখানো মতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল সুপার মার্কেটের একটি দোকান থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। এ ছাড়া ছাত্রীদের কাছ থেকে সঙ্গে নেওয়া স্বর্ণালংকারও জব্দ করা হয়।

অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান পুলিশের

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রতিম ও তাজমিন হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সময়মতো নিখোঁজের খবর পাওয়ায় চার স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো খবর পেলে তাজমিনকেও জীবিত উদ্ধার করা যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত আট ছেলের কেউ ছাত্রীদের বাড়ি ছাড়ার পেছনে জড়িত ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, এখনো ওই ছেলেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছাত্রীদের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রীকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় রাখা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।