১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, বেনাপোলে অনিশ্চয়তায় মা-শিশু

নিউজ ডেস্ক

ভারতীয় নাগরিক দাবি করা রেশমা বিবি শিশু সন্তানকে নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায়।

ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, দেশে ফিরতে বেনাপোলে দিশেহারা

বিএসএফের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ভারতীয় এক নারীকে বাংলাদেশি পরিচয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় রেশমা বিবি নামে এক নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে তিনি দেশে ফেরার উপায় খুঁজছেন বলে জানান।

ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে দাবি

রেশমা বিবির দাবি, তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রাজু শেখ এবং বাবা বুলু শেখ। তিনি দুই সন্তানের জননী।

তিনি জানান, জীবিকার তাগিদে ভারতের মুম্বাইয়ে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে তাকেও শিশু সন্তানসহ আটক করে। বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ

রেশমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। এরপর গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় বাসযোগে বেনাপোলে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করে স্বামী ও পরিবারের কাছে ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও জানান, তার আরেক সন্তান মুম্বাইয়ের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একটি হোস্টেলে অবস্থান করছে। ফলে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা শিশু সন্তান বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, বিষয়টি সরাসরি পুলিশের করণীয় নয়। এটি বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

মানবাধিকার কর্মীর মতামত

মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, বিষয়টির সমাধান দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তিনি মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় সীমান্তবাসীদের মতে, যদি রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তবে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, বেনাপোলে অনিশ্চয়তায় মা-শিশু

সময় : ০৬:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, দেশে ফিরতে বেনাপোলে দিশেহারা

বিএসএফের বিরুদ্ধে ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ভারতীয় এক নারীকে বাংলাদেশি পরিচয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় রেশমা বিবি নামে এক নারীর সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে তিনি দেশে ফেরার উপায় খুঁজছেন বলে জানান।

ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে দাবি

রেশমা বিবির দাবি, তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রাজু শেখ এবং বাবা বুলু শেখ। তিনি দুই সন্তানের জননী।

তিনি জানান, জীবিকার তাগিদে ভারতের মুম্বাইয়ে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে তাকেও শিশু সন্তানসহ আটক করে। বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ

রেশমার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। এরপর গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় বাসযোগে বেনাপোলে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করে স্বামী ও পরিবারের কাছে ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও জানান, তার আরেক সন্তান মুম্বাইয়ের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একটি হোস্টেলে অবস্থান করছে। ফলে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা শিশু সন্তান বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, বিষয়টি সরাসরি পুলিশের করণীয় নয়। এটি বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

মানবাধিকার কর্মীর মতামত

মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, বিষয়টির সমাধান দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তিনি মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয় সীমান্তবাসীদের মতে, যদি রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তবে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।