লক্ষ্মীপুরে জরাজীর্ণ স্কুলঘরে চলছে পাঠদান, ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
ভাঙা টিনের ঘরে চলছে শিশুদের ক্লাস
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ এই স্কুলঘরে বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। ফলে বেঞ্চ সরিয়ে শুকনো জায়গায় বসে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।
ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
ময়লা-আবর্জনায় দূষিত স্কুলের পরিবেশ
মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের ফেলা বর্জ্য ও টয়লেটের দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসতে কষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় ভাঙা টিনের ঘরে পানি পড়ে। তারা একটি সুন্দর স্কুল ভবন ও খেলার মাঠের দাবি জানিয়েছে।
১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজারে ১৮৯৬ সালে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পুরোনো টিনের ঘর দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ২০০১ সালে মসজিদের দেয়াল ঘেঁষে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১৩-১৪ সালে সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়।
তবে পুরোনো টিনের ঘরটি এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে।
নষ্ট দরজা-জানালা, নেই পর্যাপ্ত আসবাব
বছরের পর বছর ব্যবহারে টিনের স্কুলঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিনের চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে।
এ ছাড়া ঘরের চারটি দরজা ও ১০টি জানালা নষ্ট হয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিলেরও সংকট রয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পরিত্যক্ত স্কুলঘরটিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে খেলাধুলা করতে হয়।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি কাউছার চৌধুরী বলেন, টিনের ঘরটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি জানান, স্কুলের চারপাশে ময়লা না ফেলতে ব্যবসায়ীদের বলা হলেও তারা তা মানছেন না।
নতুন ভবনের দাবি শিক্ষকদের
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আক্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে বাজারের ব্যবসায়ীরা স্কুলের সামনে ও পেছনে ময়লা ফেলছেন।
তিনি জানান, দুর্গন্ধের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাজ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পাঠদান ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, স্কুলে খেলার মাঠ ও ওয়াশ ব্লকের অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় আসবাব প্রয়োজন।
প্রকল্পে পাঠানোর কথা জানাল শিক্ষা কর্মকর্তা
রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে কিছু সমস্যা রয়েছে।
তিনি জানান, সমস্যাযুক্ত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় প্রকল্পের জন্য পাঠানো হয়েছে।























