০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে উদ্বিগ্ন ইসরাইল, অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে উদ্বিগ্ন ইসরাইল, অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

বুধবার (২২ জুলাই) ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

সৌদি-মার্কিন চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ

ইসরাইলের সমালোচকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য শুধুই বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদন এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা।

নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এখনো মন্তব্য নেই

চুক্তি ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন।

নাফতালি বেনেটের কড়া সমালোচনা

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে এমন পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নেওয়া একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অ্যাভিগডর লিবারম্যানের সতর্কতা

ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যানও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লিবারম্যানের দাবি, ইসরাইলের উচিত চুক্তিটির বিরোধিতা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এটি অনুমোদন না পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো।

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে উদ্বিগ্ন ইসরাইল, অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

সময় : ০৭:০৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে উদ্বিগ্ন ইসরাইল, অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

বুধবার (২২ জুলাই) ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

সৌদি-মার্কিন চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ

ইসরাইলের সমালোচকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য শুধুই বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদন এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা।

নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এখনো মন্তব্য নেই

চুক্তি ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন।

নাফতালি বেনেটের কড়া সমালোচনা

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে এমন পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নেওয়া একটি গুরুতর কৌশলগত ভুল।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অ্যাভিগডর লিবারম্যানের সতর্কতা

ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যানও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লিবারম্যানের দাবি, ইসরাইলের উচিত চুক্তিটির বিরোধিতা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এটি অনুমোদন না পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো।