প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে ভারত উত্তাল, তবুও স্বপদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে উত্তাল ভারত, পদত্যাগের দাবির পরও স্বপদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
নয়াদিল্লি: ভারতে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তরুণদের নতুন সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর হাজারো সমর্থক ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মাসব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও বিরোধী দলগুলোর চাপের মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো নিজের পদে বহাল রয়েছেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তীব্র জনঅসন্তোষ
জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকারের জন্য অন্যতম বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করেছে।
সাধারণত বড় ধরনের গণবিক্ষোভ বা বিতর্কের মুখে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির থাকলেও ভারতে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
চাপের মুখে মন্ত্রী না সরানোর নীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে চাপের মুখে মন্ত্রীদের সরিয়ে না দেওয়ার প্রবণতা বারবার দেখা গেছে।
এর আগে একাধিক বিতর্ক ও বড় রাজনৈতিক সংকটের পরও গণদাবির মুখে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়নি।
দাদরি হত্যাকাণ্ড ও মহেশ শর্মা বিতর্ক
২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার গুজবকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আখলাক নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তৎকালীন সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা ওই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন। পরে তিনি ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি সমবেদনা জানানো নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন।
দেশজুড়ে পদত্যাগের দাবি উঠলেও মোদি সরকার তাকে মন্ত্রিসভায় রাখে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।
রোহিত ভেমুলা ইস্যুতেও মন্ত্রীদের বহাল রাখা হয়
২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যাকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
তৎকালীন মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও শ্রমমন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। তবে তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। পরে স্মৃতি ইরানির মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হয়।
লখিমপুর খেরি ঘটনায়ও পদত্যাগ করেননি মন্ত্রী
২০২১ সালে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষক আন্দোলনের সময় গাড়িচাপায় কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলে আশিস মিশ্রের নাম আলোচনায় আসে।
ঘটনার পর অজয় মিশ্র তেনির পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মন্ত্রিত্বে ছিলেন।
কোভিড সংকটের পর হর্ষ বর্ধনের পদত্যাগ
নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে বড় ধরনের চাপের মুখে মন্ত্রীর পদত্যাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর।
কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন পদত্যাগ করেন। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে যান।
মোদি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চাপের মুখে মন্ত্রী পরিবর্তন না করার নীতি মোদি সরকারের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিরোধীদের মতে, এটি জবাবদিহিতা কমানোর প্রবণতা। অন্যদিকে বিজেপির সমর্থকদের মতে, সরকার বাইরের চাপের পরিবর্তে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেয়।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন আগের সরকারগুলোর সময় বড় বিতর্কের মুখে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির থাকলেও মোদি সরকারের ক্ষেত্রে সেই ধারা দেখা যায় না।






















