ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সিজেপির আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সিজেপির আন্দোলনের পর বড় সিদ্ধান্ত
নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের চাপের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব ছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শুরু হয়েছিল আন্দোলন
নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে এবং তাঁর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
সরকারের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যে দুই দফা বৈঠক হয়েছিল। তবে পদত্যাগের দাবি নিয়ে তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন ধর্মেন্দ্র
ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, নিয়ম মেনে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন।
ইস্তফার ঘোষণা করে ধর্মেন্দ্র সামাজিক মাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনায় তিনি দুঃখিত। তিনি বলেন, ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন।
পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ রক্ষার কথা জানালেন ধর্মেন্দ্র
ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেছেন, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবেন না—এটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের ঐক্য বজায় রাখা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিজেপির তিনটি দাবি
সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছিল—
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা
- নিট প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবিতে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি শুক্রবার পর্যন্ত মেনে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছিল সিজেপি।
সোনম ওয়াংচুকের অনশনও ছিল আলোচনায়
নিট ইস্যু এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তিনি তা প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাঁর অন্যতম দাবির মধ্যে। অনশন শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসে।
নিট বিতর্কে নতুন রাজনৈতিক চাপ
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিট বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিল।
এখন শিক্ষা মন্ত্রকের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।























