দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি
রমনা কালী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোথাও আছে বলে তাঁর জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারছেন। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।
রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি
রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে এ ঘটনার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের দায়ী করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপন করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং অপপ্রচার চালানো হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।
অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।























