প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি: বার্মিংহাম আবিষ্কার, সমরখন্দ মুসহাফ ও ইতিহাসের বিস্ময়
প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি: বার্মিংহাম আবিষ্কার, সমরখন্দ মুসহাফ ও ইতিহাসের বিস্ময়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত একটি প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি নতুন করে আন্তর্জাতিক গবেষণার কেন্দ্রে এসেছে। রেডিওকার্বন ডেটিং বিশ্লেষণে গবেষকদের ধারণা, পাণ্ডুলিপিটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশা অথবা তাঁর ওফাতের অল্প কিছু সময় পরের অনুলিপির অংশ হতে পারে।
এই আবিষ্কার কোরআনের প্রাথমিক লিখিত সংরক্ষণ, আরবি লিপির বিকাশ এবং ইসলামের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব
গবেষক মনির ইউসুফ তাহার মতে, বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত দুই পাতার এই পাণ্ডুলিপি হিজরি প্রথম শতকের অত্যন্ত প্রাচীন নিদর্শন হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি ইসলামের সূচনালগ্নের লিখিত কোরআনিক পাঠের ঐতিহাসিক সত্যতাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।
হিজরি প্রথম শতকের আরবি দলিল
ইতিহাসবিদদের মতে, মিসরে আবিষ্কৃত হিজরি ২২ সালের (৬৪৩ খ্রিস্টাব্দ) দুটি আরবি প্যাপিরাস প্রমাণ করে যে ইসলামের শুরুর দিকেই প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আরবি ভাষার লিখিত ব্যবহার সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।
একটি প্যাপিরাসে কর আদায়ের হিসাব এবং অন্যটিতে মুসলিম সেনাবাহিনীর জন্য ভেড়া সরবরাহের রসিদ সংরক্ষিত রয়েছে।
সমরখন্দ মুসহাফের ইতিহাস
প্রাচীন কোরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে পরিচিত সমরখন্দ মুসহাফ ১৮৬৯ সালে মধ্য এশিয়ার সমরখন্দ থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে এটি রুশ সাম্রাজ্যের উদ্যোগে সেন্ট পিটার্সবার্গের ইম্পেরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এটি খলিফা হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মসহাফে উসমানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
গবেষকদের মূল্যায়ন
রুশ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমরখন্দের এই পাণ্ডুলিপিটি হিজরি প্রথম অথবা দ্বিতীয় শতকের শুরুতে লিখিত হতে পারে।
আরবি ক্যালিগ্রাফি ও প্রাথমিক ইসলামি লিপির ইতিহাস গবেষণায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বলশেভিক বিপ্লব ও পাণ্ডুলিপির নিখোঁজ হওয়া
১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে তুর্কিস্তানে স্থানান্তরের পথে ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপিটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বহু অনুসন্ধান চালানো হলেও মূল পাণ্ডুলিপির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯০৫ সালের বিরল প্রতিলিপি
মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেলেও এর একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাকসিমিলি (হুবহু আলোকচিত্রভিত্তিক প্রতিলিপি) ১৯০৫ সালে প্রকাশ করা হয়।
৩৫৩ পৃষ্ঠার এই বিশেষ সংস্করণের মাত্র ৫০টি কপি মুদ্রিত হয়েছিল। প্রতিটি কপির ওজন ছিল প্রায় ১৮ কেজি এবং সে সময় এর মূল্য ছিল ১০০ পাউন্ড।
ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্মিংহাম পাণ্ডুলিপি, সমরখন্দ মুসহাফ এবং প্রাচীন আরবি দলিলসমূহ কোরআনের প্রাথমিক সংরক্ষণ ও ইসলামি সভ্যতার লিখিত ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গবেষণাগুলো কোরআনের ইতিহাস, আরবি লিপির বিকাশ এবং প্রাচীন ইসলামি পাণ্ডুলিপি নিয়ে চলমান একাডেমিক গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


























