মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
মাগুরায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
মাগুরায় আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট একই বেঞ্চ হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। ওই রায়ে আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি তার আপিল খারিজ ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করা হয়।
হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা। তিনি পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার শুনানি
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। ওই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
মামলাটির শুনানিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হয়। ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করে। এরপর ২৩ ও ২৪ আগস্ট ধারাবাহিকভাবে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট আদালত ৩১ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা করে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চের শুরুতে ৮ বছরের শিশু আছিয়া তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
ঘটনার দিন ৬ মার্চ থেকে হিসাব করলে ৭৩ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ৩১ আগস্ট প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। সোমবার সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

















