০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩

নিউজ ডেস্ক

পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ও আশপাশে তিন দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. সুজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন যুবদল নেতা মো. আমজাদ এবং ছাত্রদলকর্মী জাহাঙ্গীর, টিপু, আজাদ, ইরফান, শুভ, বোরহান, রায়হান, মাশফি, আফজল, রাফি ও আরফান।

চুরির ঘটনায় এক কিশোরকে মারধর এবং এর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর জন্য শাসিয়ে দেন। এ সময় যুবদল নেতা আমজাদ এর প্রতিবাদ করলে সুজনের সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আমজাদের পক্ষের লোকজন এসে সুজনসহ ৪-৫ জনকে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরে আহত সুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের প্রবেশমুখে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সুজনের অনুসারীদের সঙ্গে আমজাদের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।

খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমজাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী। অন্যদিকে সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী।

সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাদী বলেন, ইউপি সদস্য সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানোর সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পটিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেন। মারামারিতে আহত ১০ জন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩

সময় : ০২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ও আশপাশে তিন দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. সুজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন যুবদল নেতা মো. আমজাদ এবং ছাত্রদলকর্মী জাহাঙ্গীর, টিপু, আজাদ, ইরফান, শুভ, বোরহান, রায়হান, মাশফি, আফজল, রাফি ও আরফান।

চুরির ঘটনায় এক কিশোরকে মারধর এবং এর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর জন্য শাসিয়ে দেন। এ সময় যুবদল নেতা আমজাদ এর প্রতিবাদ করলে সুজনের সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আমজাদের পক্ষের লোকজন এসে সুজনসহ ৪-৫ জনকে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরে আহত সুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের প্রবেশমুখে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সুজনের অনুসারীদের সঙ্গে আমজাদের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।

খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমজাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী। অন্যদিকে সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী।

সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাদী বলেন, ইউপি সদস্য সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানোর সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পটিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেন। মারামারিতে আহত ১০ জন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।