সৌরজগতের কাছে লুকিয়ে থাকা ৪ নতুন শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা
হাবল স্পেস টেলিস্কোপের অতিবেগুনি পর্যবেক্ষণে সৌরজগতের কাছাকাছি চারটি নতুন শ্বেত বামন নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
সৌরজগতের কাছেই লুকিয়ে ছিল ৪ নতুন শ্বেত বামন নক্ষত্র, হাবল টেলিস্কোপে মিলল সন্ধান
মহাবিশ্বের অসীম বিস্তারে এমন অনেক নক্ষত্র রয়েছে, যেগুলো উজ্জ্বল তারার আড়ালে লুকিয়ে থাকায় আধুনিক টেলিস্কোপেও সহজে ধরা পড়ে না। সম্প্রতি নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় সৌরজগতের খুব কাছাকাছি অবস্থান করা চারটি নতুন শ্বেত বামন (White Dwarf) নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ধারণা, এসব নক্ষত্র এত দিন তাদের সঙ্গী লাল বামন (Red Dwarf) নক্ষত্রের তীব্র আলোর কারণে আড়ালেই ছিল।
অক্সফোর্ড একাডেমিকে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত হওয়া শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলো জি ২০৩–৪৭ (G 203–47), জিজে ২০৭.১ (GJ 207.1), এলএইচএস ১৮১৭ (LHS 1817) এবং উলফ ১১৩০ (Wolf 1130) নামের চারটি বাইনারি স্টার সিস্টেমে অবস্থিত। প্রতিটি সিস্টেমে একটি শ্বেত বামন নক্ষত্র তার সঙ্গী লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের স্পেস টেলিস্কোপ ইমেজিং স্পেকট্রোগ্রাফ (STIS)। অতিবেগুনি (Ultraviolet) রশ্মির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা শ্বেত বামন নক্ষত্রের আলো আলাদা করতে সক্ষম হন। কারণ, শ্বেত বামন নক্ষত্র তাদের সঙ্গী লাল বামনের তুলনায় অনেক বেশি অতিবেগুনি বিকিরণ নির্গত করে, যা শনাক্তকরণকে সহজ করেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত চারটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের তাপমাত্রা ৫,৩০০ থেকে ৬,৩০০ কেলভিন। তুলনামূলকভাবে শীতল হওয়ায় প্রচলিত দৃশ্যমান আলোর পর্যবেক্ষণে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন ছিল। শুধু দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করলে নক্ষত্রগুলোর তাপমাত্রা প্রকৃত মানের চেয়ে ৫ থেকে ৮ শতাংশ বেশি বলে মনে হতে পারে।
আবিষ্কৃত নক্ষত্রগুলোর মধ্যে জি ২০৩–৪৭ পৃথিবী থেকে মাত্র ৭.৬ পারসেক দূরে অবস্থিত। প্রায় দুই দশক ধরে সেখানে একটি শ্বেত বামন নক্ষত্র থাকার সন্দেহ করা হলেও এবারই প্রথম তার নিশ্চিত প্রমাণ মিলেছে। এটি বর্তমানে সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলোর মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আশপাশের আরও অনেক লাল বামন নক্ষত্রের আড়ালে একই ধরনের শ্বেত বামন নক্ষত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ চালানো হলে ৯ থেকে ১০টি নতুন শ্বেত বামন নক্ষত্র শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকেরা আশা করছেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া






















