০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা বাতিল কেন? যা থাকবে, যা থাকবে না

নিউজ ডেস্ক

সরকারের সিদ্ধান্তে ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে অন্য নিয়মে।

কেন বাতিল হলো ১৮ মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা? কী থাকবে, কী থাকবে না

রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় পুলিশের এসকর্ট গাড়ি দেখা একটি পরিচিত দৃশ্য। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে রাজধানীতে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এই সুবিধা পাবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়, পুলিশের যানবাহনের সংকট এবং নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীও নিজের প্রটোকল বহর কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

কারা পাচ্ছেন এসকর্ট সুবিধা

বর্তমানে রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা বহাল রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জন্য।

পুলিশের এসকর্ট সুবিধা কী

এসকর্ট হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণত একজন ভিআইপির গাড়ির সামনে বা পাশে পুলিশের একটি প্রটেকশন গাড়ি থাকে, যাতে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে নিরাপদ চলাচল, যানজট দ্রুত অতিক্রম এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।

কারা এই সুবিধা পান

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পুলিশের এসকর্ট সুবিধা পান। এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা বিশেষ অতিথিদের সফরের সময়ও সাময়িকভাবে এ সুবিধা দেওয়া হয়।

এসকর্ট বাতিল হলেও নিরাপত্তা থাকবে

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হলেও তাঁদের নিরাপত্তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রীর জন্য গানম্যান ও হাউস গার্ড বহাল থাকবে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও এসকর্টের ব্যবস্থা করবে।

কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও যানবাহনের সংকটে ভুগছে তারা। আগে একজন মন্ত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েই একই প্রটেকশন গাড়িকে আরেকজনের দায়িত্বে যেতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্য এবং ১৮টি প্রটেকশন গাড়ি অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

আগে এসকর্ট দায়িত্বে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করলেও এখন এ সংখ্যা কমে ৩০ থেকে ৩৫ জনে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এসকর্টের গাড়ির সংখ্যা ২৫ থেকে ৭টিতে সীমিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হয়

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইন, ২০২১ অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়। এসএসএফ সার্বক্ষণিক তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

ডিএমপির কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমিত জনবল ও যানবাহন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং পুলিশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনেও সুবিধা হবে।

১৮ মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা বাতিল কেন? যা থাকবে, যা থাকবে না

সময় : ১১:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কেন বাতিল হলো ১৮ মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা? কী থাকবে, কী থাকবে না

রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় পুলিশের এসকর্ট গাড়ি দেখা একটি পরিচিত দৃশ্য। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে রাজধানীতে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এই সুবিধা পাবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়, পুলিশের যানবাহনের সংকট এবং নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীও নিজের প্রটোকল বহর কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

কারা পাচ্ছেন এসকর্ট সুবিধা

বর্তমানে রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা বহাল রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জন্য।

পুলিশের এসকর্ট সুবিধা কী

এসকর্ট হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণত একজন ভিআইপির গাড়ির সামনে বা পাশে পুলিশের একটি প্রটেকশন গাড়ি থাকে, যাতে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে নিরাপদ চলাচল, যানজট দ্রুত অতিক্রম এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।

কারা এই সুবিধা পান

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পুলিশের এসকর্ট সুবিধা পান। এছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা বিশেষ অতিথিদের সফরের সময়ও সাময়িকভাবে এ সুবিধা দেওয়া হয়।

এসকর্ট বাতিল হলেও নিরাপত্তা থাকবে

ডিএমপি জানিয়েছে, ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হলেও তাঁদের নিরাপত্তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রীর জন্য গানম্যান ও হাউস গার্ড বহাল থাকবে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও এসকর্টের ব্যবস্থা করবে।

কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত

ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও যানবাহনের সংকটে ভুগছে তারা। আগে একজন মন্ত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েই একই প্রটেকশন গাড়িকে আরেকজনের দায়িত্বে যেতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্য এবং ১৮টি প্রটেকশন গাড়ি অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

আগে এসকর্ট দায়িত্বে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করলেও এখন এ সংখ্যা কমে ৩০ থেকে ৩৫ জনে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এসকর্টের গাড়ির সংখ্যা ২৫ থেকে ৭টিতে সীমিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হয়

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইন, ২০২১ অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়। এসএসএফ সার্বক্ষণিক তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

ডিএমপির কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমিত জনবল ও যানবাহন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং পুলিশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনেও সুবিধা হবে।