০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফায়ারিং প্রশিক্ষণে নিহত সেনাসদস্য আবু বকর, ছেলের শোকে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা

নিউজ ডেস্ক

ফায়ারিং প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিকের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী প্রতিনিধি: চার বোনের পর জন্ম নেওয়া আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন পরিবারের সবার আদরের। পরিবারের অভাব ঘোচাতে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে পরিবারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন। সেই ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তাঁর মা পারভিন আক্তার।

সবার কাছে পিয়াস নামে পরিচিত আবু বকর সিদ্দিক সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিফাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আবু বকরের বাবা আবদুল ওয়াহাব একসময় মুদিদোকান চালাতেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই থাকেন। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন আবু বকর।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকালে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।

স্বজনেরা জানান, আবু বকরের এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এরপর থেকেই মা পারভিন আক্তার বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন।

আবু বকরের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন আবু বকর। ফায়ারিং প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর টাঙ্গাইলে বদলি হওয়ার কথা ছিল। বদলির আগে ছুটি নিয়ে আবার বাড়িতে আসবেন বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হলো না।

মিজানুর রহমান বলেন, আবু বকরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর বাবা আবদুল ওয়াহাব একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছেন। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। আবু বকরকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। তাঁর এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আবু বকরের লাশ বহনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর শহীদ স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আবু বকর সিদ্দিকের মরদেহ দাফন করা হবে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ফোন করে তাঁকে আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যানকে পাঠিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

ফায়ারিং প্রশিক্ষণে নিহত সেনাসদস্য আবু বকর, ছেলের শোকে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা

সময় : ১২:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি: চার বোনের পর জন্ম নেওয়া আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন পরিবারের সবার আদরের। পরিবারের অভাব ঘোচাতে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে পরিবারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন। সেই ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তাঁর মা পারভিন আক্তার।

সবার কাছে পিয়াস নামে পরিচিত আবু বকর সিদ্দিক সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিফাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আবু বকরের বাবা আবদুল ওয়াহাব একসময় মুদিদোকান চালাতেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই থাকেন। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন আবু বকর।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকালে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।

স্বজনেরা জানান, আবু বকরের এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এরপর থেকেই মা পারভিন আক্তার বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন।

আবু বকরের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন আবু বকর। ফায়ারিং প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর টাঙ্গাইলে বদলি হওয়ার কথা ছিল। বদলির আগে ছুটি নিয়ে আবার বাড়িতে আসবেন বলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ হলো না।

মিজানুর রহমান বলেন, আবু বকরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর বাবা আবদুল ওয়াহাব একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছেন। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। আবু বকরকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। তাঁর এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আবু বকরের লাশ বহনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর শহীদ স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আবু বকর সিদ্দিকের মরদেহ দাফন করা হবে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ফোন করে তাঁকে আবু বকর সিদ্দিকের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যানকে পাঠিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।