দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স উড়িয়ে দিল ইসরাইল
দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স ও দুটি বড় টানেল হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, আল-তাহের পর্বতশ্রেণীর নিচে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই টানেল দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছিল।
টানেল ধ্বংসের সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর তীব্রতায় পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ কম্পন অনুভূত হয়। এই কম্পন প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর সাইদাতেও অনুভূত হয়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, ভূগর্ভস্থ ওই কমপ্লেক্সে হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের একটি প্রধান কমান্ড সেন্টার ছিল। অভিযান শেষে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলের দাবি, কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ধ্বংসের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা হিজবুল্লাহর সদস্যরা নিহত হয়েছেন অথবা সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
তবে ইসরাইলের এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। এতে লেবাননে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে নেয়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বড় ধরনের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















