০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সামরিক কাজে অ্যানথ্রোপিকের এআই ‘ক্লদ’ ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ক্লদ ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলোর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ‘ক্লদ’ ব্যবহার করেছে ইরান।

অ্যানথ্রোপিক প্রকাশিত একটি বিস্তারিত নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বরাতে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তথ্য বিশ্লেষণে ক্লদ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র খোলা উৎস বা জনসমক্ষে থাকা বিভিন্ন ডেটা সংগ্রহ করে ক্লদ-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছিল।

তারা জাহাজের স্যাটেলাইট সিস্টেম, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, এয়ারক্রাফট ট্রান্সপন্ডার তথ্য এবং সামরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবি থেকে সংগৃহীত মার্কিন সেনাদের নাম ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের একটি স্বয়ংক্রিয় নির্দেশিকা তৈরি করে।

এআই মডেলটির সহায়তায় পাইথন কোড লিখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হয়।

নজরদারি ও সাইবার কার্যক্রমেও এআই ব্যবহার

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, শুধু মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রেই নয়, আরও বিভিন্ন কার্যক্রমে ক্লদকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করা, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি, সাইবার হামলার প্রস্তুতি এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মতো কার্যক্রমও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক

বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর অ্যানথ্রোপিক ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া তথ্য মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামরিক কাজে এআই ব্যবহারে নতুন উদ্বেগ

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দেশ বা গোষ্ঠীগুলো কীভাবে পশ্চিমা দেশগুলোর উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে—এই ঘটনা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এতে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত উন্নত এআই মডেলগুলোর অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইরানের সামরিক কাজে অ্যানথ্রোপিকের এআই ‘ক্লদ’ ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ

সময় : ০৫:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলোর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ‘ক্লদ’ ব্যবহার করেছে ইরান।

অ্যানথ্রোপিক প্রকাশিত একটি বিস্তারিত নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বরাতে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তথ্য বিশ্লেষণে ক্লদ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র খোলা উৎস বা জনসমক্ষে থাকা বিভিন্ন ডেটা সংগ্রহ করে ক্লদ-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছিল।

তারা জাহাজের স্যাটেলাইট সিস্টেম, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, এয়ারক্রাফট ট্রান্সপন্ডার তথ্য এবং সামরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবি থেকে সংগৃহীত মার্কিন সেনাদের নাম ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের একটি স্বয়ংক্রিয় নির্দেশিকা তৈরি করে।

এআই মডেলটির সহায়তায় পাইথন কোড লিখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হয়।

নজরদারি ও সাইবার কার্যক্রমেও এআই ব্যবহার

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, শুধু মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রেই নয়, আরও বিভিন্ন কার্যক্রমে ক্লদকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করা, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি, সাইবার হামলার প্রস্তুতি এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মতো কার্যক্রমও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক

বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর অ্যানথ্রোপিক ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া তথ্য মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামরিক কাজে এআই ব্যবহারে নতুন উদ্বেগ

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দেশ বা গোষ্ঠীগুলো কীভাবে পশ্চিমা দেশগুলোর উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক তথ্য বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে—এই ঘটনা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এতে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত উন্নত এআই মডেলগুলোর অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।