০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসে যাত্রী জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, র‍্যাবের অভিযানে মূল হোতা আটক

নিউজ ডেস্ক

বাসে এক যাত্রীকে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ডাকাত চক্র। পরে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে মূল হোতাকে আটক করে।

নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে বাসে উঠেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিছু দূর যাওয়ার পরই তাঁর সন্দেহ হয়, বাসে থাকা কয়েকজন আসলে সাধারণ যাত্রী নন। কিছুক্ষণ পর তাঁর সেই সন্দেহ সত্যি হয়।

আসল যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিতে শুরু করে বাসে থাকা ডাকাত দলটি। এরপর জাহাঙ্গীরকে আটকে রেখে চলে নির্দয় মারধর। বুকে ছুরি ঠেকিয়ে তাঁর কাছে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

বাঁচার আশায় ছোট ভাই ও সহকর্মীদের ফোন করেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ডাকাতদের দেন। তাঁর এটিএম কার্ডও ছিনিয়ে নেয় তারা। কিন্তু তাতেও মেলেনি মুক্তি।

বাকি টাকার জন্য জাহাঙ্গীরকে জিম্মি করেই বাসটি ঢাকার আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়।

বিকাশের সূত্রে বাসের অবস্থান শনাক্ত

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর তাঁর ভাইকে ফোন করে দ্রুত দুই লাখ টাকা ওই বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকলে তোর টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’

জাহাঙ্গীরের কথায় সন্দেহ হলে তাঁর ছোট ভাই শাহারুল আলম বিষয়টি র‍্যাবকে জানান।

বিকাশে টাকা পাঠানোর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪। রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা এলাকায় বাসটির পথ রোধ করে র‍্যাব।

দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়ে বাস থামায় র‍্যাব

বাসটি থামাতে র‍্যাব দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়েছিল। প্রথম তল্লাশিচৌকি দেখে বাসটি দ্রুতগতিতে সেটি ভেঙে পালিয়ে সামনের দিকে গেলে পরের তল্লাশিচৌকির সামনে পড়ে।

এ সময় বাসটি থামিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে কিছু দূর দৌড়ানোর পর মূল হোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে (৪০) আটক করে র‍্যাব।

বাস থেকে উদ্ধার করা হয় জাহাঙ্গীরকে। এ সময় বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

আটক জাবেদ ইকবাল ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের বর্ণনা

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি বরগুনার আমতলী এলাকায়।

জাহাঙ্গীর জানান, তিনি অফিসের কাজে ভালুকায় গিয়েছিলেন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফেরার উদ্দেশে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসে ওঠেন।

তিনি বলেন, বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারেন, দুই-তিনজন সাধারণ যাত্রী ছাড়া বাকি সাত-আটজনই চক্রের সদস্য।

সাধারণ যাত্রীদের মুঠোফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসের জানালা ও পর্দা বন্ধ করে তাঁকে মারধর শুরু করে ডাকাত দলের সদস্যরা।

জাহাঙ্গীরের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরি ধরে তাঁকে বলা হয় পাঁচ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলা হবে। বাধ্য হয়ে বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে দিলেও পুরো টাকার দাবিতে বাসটি আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে চালানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলন্ত বাসে ডাকাতির অভিযোগ

র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, চলন্ত বাস ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সাহায্যে বাসটির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। বাসটি ত্রিশাল পেরিয়ে ময়মনসিংহ বাইপাসের দিকে আসার সময় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে দিঘারকান্দা এলাকায় সেটিকে থামানো হয়।

মূল হোতার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মূল হোতা জাবেদ ইকবালের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আটক জাবেদ ইকবালকে থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

বাসে যাত্রী জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, র‍্যাবের অভিযানে মূল হোতা আটক

সময় : ০৬:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে বাসে উঠেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিছু দূর যাওয়ার পরই তাঁর সন্দেহ হয়, বাসে থাকা কয়েকজন আসলে সাধারণ যাত্রী নন। কিছুক্ষণ পর তাঁর সেই সন্দেহ সত্যি হয়।

আসল যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিতে শুরু করে বাসে থাকা ডাকাত দলটি। এরপর জাহাঙ্গীরকে আটকে রেখে চলে নির্দয় মারধর। বুকে ছুরি ঠেকিয়ে তাঁর কাছে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

বাঁচার আশায় ছোট ভাই ও সহকর্মীদের ফোন করেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ডাকাতদের দেন। তাঁর এটিএম কার্ডও ছিনিয়ে নেয় তারা। কিন্তু তাতেও মেলেনি মুক্তি।

বাকি টাকার জন্য জাহাঙ্গীরকে জিম্মি করেই বাসটি ঢাকার আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়।

বিকাশের সূত্রে বাসের অবস্থান শনাক্ত

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর তাঁর ভাইকে ফোন করে দ্রুত দুই লাখ টাকা ওই বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকলে তোর টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’

জাহাঙ্গীরের কথায় সন্দেহ হলে তাঁর ছোট ভাই শাহারুল আলম বিষয়টি র‍্যাবকে জানান।

বিকাশে টাকা পাঠানোর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪। রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা এলাকায় বাসটির পথ রোধ করে র‍্যাব।

দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়ে বাস থামায় র‍্যাব

বাসটি থামাতে র‍্যাব দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়েছিল। প্রথম তল্লাশিচৌকি দেখে বাসটি দ্রুতগতিতে সেটি ভেঙে পালিয়ে সামনের দিকে গেলে পরের তল্লাশিচৌকির সামনে পড়ে।

এ সময় বাসটি থামিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে কিছু দূর দৌড়ানোর পর মূল হোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে (৪০) আটক করে র‍্যাব।

বাস থেকে উদ্ধার করা হয় জাহাঙ্গীরকে। এ সময় বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

আটক জাবেদ ইকবাল ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের বর্ণনা

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি বরগুনার আমতলী এলাকায়।

জাহাঙ্গীর জানান, তিনি অফিসের কাজে ভালুকায় গিয়েছিলেন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফেরার উদ্দেশে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসে ওঠেন।

তিনি বলেন, বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারেন, দুই-তিনজন সাধারণ যাত্রী ছাড়া বাকি সাত-আটজনই চক্রের সদস্য।

সাধারণ যাত্রীদের মুঠোফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসের জানালা ও পর্দা বন্ধ করে তাঁকে মারধর শুরু করে ডাকাত দলের সদস্যরা।

জাহাঙ্গীরের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরি ধরে তাঁকে বলা হয় পাঁচ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলা হবে। বাধ্য হয়ে বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে দিলেও পুরো টাকার দাবিতে বাসটি আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে চালানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলন্ত বাসে ডাকাতির অভিযোগ

র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, চলন্ত বাস ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সাহায্যে বাসটির গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। বাসটি ত্রিশাল পেরিয়ে ময়মনসিংহ বাইপাসের দিকে আসার সময় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে দিঘারকান্দা এলাকায় সেটিকে থামানো হয়।

মূল হোতার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মূল হোতা জাবেদ ইকবালের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আটক জাবেদ ইকবালকে থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।