০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ৩০ বছরের সমঝোতায় মার্কিন কোম্পানির বড় সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে ১২৩ এগ্রিমেন্ট অনুমোদন করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছেন।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের উদীয়মান পারমাণবিক শিল্পে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


৩০ বছরের চুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

চুক্তিটির মেয়াদ প্রায় ৩০ বছর এবং এর আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।


কী এই ১২৩ এগ্রিমেন্ট?

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৪ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার অধীনে বিদেশি দেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করা হয়।

এই চুক্তি ছাড়া মার্কিন সরকার বা কোম্পানিগুলো কোনো দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা সহযোগিতা দিতে পারে না।


ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক

চুক্তিটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নিরাপত্তা শর্ত না থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ পেতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।


সৌদির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।

তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে।

তবে সৌদি আরবের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।


অস্ত্র বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।

ইসরাইলও সৌদির পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে, ঠিক সেই সময়ে সৌদির সঙ্গে এই চুক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনা

চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়ার পর ৯০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে।

কংগ্রেস চাইলে যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে চুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা বাতিল করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, মার্কিন জ্বালানি বিভাগ ও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ৩০ বছরের সমঝোতায় মার্কিন কোম্পানির বড় সুযোগ

সময় : ০৩:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে ১২৩ এগ্রিমেন্ট অনুমোদন করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছেন।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের উদীয়মান পারমাণবিক শিল্পে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


৩০ বছরের চুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

চুক্তিটির মেয়াদ প্রায় ৩০ বছর এবং এর আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।


কী এই ১২৩ এগ্রিমেন্ট?

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৪ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার অধীনে বিদেশি দেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করা হয়।

এই চুক্তি ছাড়া মার্কিন সরকার বা কোম্পানিগুলো কোনো দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা সহযোগিতা দিতে পারে না।


ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ক

চুক্তিটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নিরাপত্তা শর্ত না থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ পেতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।


সৌদির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।

তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে।

তবে সৌদি আরবের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।


অস্ত্র বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।

ইসরাইলও সৌদির পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছে, ঠিক সেই সময়ে সৌদির সঙ্গে এই চুক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনা

চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়ার পর ৯০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে।

কংগ্রেস চাইলে যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে চুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা বাতিল করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, মার্কিন জ্বালানি বিভাগ ও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।