০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পান করার উপকারিতা, জানুন স্বাস্থ্যগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

তেজপাতা শুধু রান্নার মসলা নয়, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের কারণে অনেকেই বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পান করেন।

বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পান করার উপকারিতা, জানুন কী বলে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে পরিচিত মসলা তেজপাতার রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে তেজপাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা ও শরীরের সাধারণ অস্বস্তি কমাতে অনেকেই তেজপাতা ভেজানো বা ফোটানো পানি পান করেন।

তবে তেজপাতার পানি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্যসমস্যায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তেজপাতায় থাকা পুষ্টিগুণ

তেজপাতায় রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভনয়েড, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হজমের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে

বর্ষাকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা, পেটফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তেজপাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

অনেকে খাবারের পর হালকা পেটের অস্বস্তি কমাতে তেজপাতা ফোটানো পানি পান করে থাকেন।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

কিছু গবেষণায় তেজপাতার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা এবং গ্লুকোজ বিপাকে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তেজপাতার পানি কোনোভাবেই ওষুধের বিকল্প নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে

তেজপাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

এগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য শুধু তেজপাতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে

তেজপাতায় থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যায় অনেকেই তেজপাতা ফোটানো পানি পান করেন।

সতর্কতা জরুরি

তেজপাতার পানি পান করলেই সব ধরনের রোগ দূর হয়ে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত কোনো কিছু গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

যাদের বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের তেজপাতার পানি নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পান করার উপকারিতা, জানুন স্বাস্থ্যগুণ

সময় : ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পান করার উপকারিতা, জানুন কী বলে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে পরিচিত মসলা তেজপাতার রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে তেজপাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা ও শরীরের সাধারণ অস্বস্তি কমাতে অনেকেই তেজপাতা ভেজানো বা ফোটানো পানি পান করেন।

তবে তেজপাতার পানি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্যসমস্যায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তেজপাতায় থাকা পুষ্টিগুণ

তেজপাতায় রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভনয়েড, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হজমের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে

বর্ষাকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা, পেটফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তেজপাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

অনেকে খাবারের পর হালকা পেটের অস্বস্তি কমাতে তেজপাতা ফোটানো পানি পান করে থাকেন।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

কিছু গবেষণায় তেজপাতার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা এবং গ্লুকোজ বিপাকে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তেজপাতার পানি কোনোভাবেই ওষুধের বিকল্প নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে

তেজপাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

এগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য শুধু তেজপাতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে

তেজপাতায় থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যায় অনেকেই তেজপাতা ফোটানো পানি পান করেন।

সতর্কতা জরুরি

তেজপাতার পানি পান করলেই সব ধরনের রোগ দূর হয়ে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত কোনো কিছু গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

যাদের বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের তেজপাতার পানি নিয়মিত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।